প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সাধারণত বিমানে উঠলে (Travel Tips) বন্ধ করে দিতে হয় মোবাইল ফোন, ট্যাবলেট। বন্ধ না করলেও ফোন যাতে ফ্লাইট মোডে (Flight Mode) থাকে সেই নিয়ে বার বার সতর্ক করেন বিমানকর্মীরা। কিন্তু কেন এই সতর্কবার্তা অনেকের কাছেই অজানা। তাই আমাদের আজকের এই প্রতিবেদন সেই তথ্য তুলে ধরলে আপনাদের সামনে..
বিমানে ওঠার পরে মানতে হয় নিয়ম
বিমান যাত্রা শুরুর আগে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট যাত্রীদের বেশ কিছু নির্দেশ দিয়ে থাকেন। ঠিকভাবে বেল্ট পরা, আপতকালীন সময় কী করণীয় সবটাই বুঝিয়ে দেয়। এছাড়াও ফোন সহ অন্যান্য ইলেক্ট্রনিক গেজেট বন্ধ করা বা ফ্লাইট মোডে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। এদিকে বিমান সফরে যেহেতু এমনিতেই ফোনে নেটওয়ার্ক থাকে না। তাই অনেকেই আলাদা করে নিজের ফোন এয়ারপ্লেন মোডে রাখেন না। বা রাখার প্রয়োজন মনে করেন না। কিন্তু তাও সকলকে ফোন বন্ধ বা ফ্লাইট মোড করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
কেন ফোন বন্ধ বা ফ্লাইট মোডে রাখতে হয়?
জানা গিয়েছে, বিমান আকাশে ওড়াকালীন ফোন থেকে নির্গত ইলকট্রোম্যাগনেটিক সিগন্যাল ক্রমাগত নেটওয়ার্কের খোঁজ করে এবং বিমানের নিজস্ব ইলকট্রোম্যাগনেটিক প্রযুক্তির কাজে বাধা সৃষ্টি করে। আধুনিক বিমান ওই ধরনের ঝুঁকি কমাতে পারে ঠিকই। কিন্তু তারও একটা সীমা আছে। বিমানে থাকা সকলেই যদি এই ফোন চালান তাহলে বিমানের গতিবিধির ওপর খারাপ প্রভাব পরে। এমনকি ফ্লাইটের সময় মোবাইল বা ল্যাপটপ চালু থাকলে, পাইলটের প্রাপ্ত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সিতে বাধা পায়। অর্থাৎ বিমান চালানোর সময় পাইলটরা সবসময় রডার এবং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। কিন্তু যদি ফোন চালু থাকে, তাহলে সমস্যা হয়।
আরও পড়ুন: এই ৪ দেশের মহিলা বন্দিদের উপর চলে ভয়ংকর অত্যাচার, জানলে শিউরে উঠবেন
প্রসঙ্গত, যাত্রী নিরাপত্তার বিষয়টি ছা়ড়াও বিমানসফরে ফোন এয়ারপ্লেন মোডে না রাখলে শারীরিক সমস্যাও হতে পারে। কারণ ফোন থেকে নির্গত ইলকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন মানসিক চাপের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনও যাত্রী যদি বিমানে উঠে ফোনের ফ্লাইট মোড চালু না করে বা ফোন বন্ধ করে না দেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে। এছাড়াও বিমানযাত্রার সময় মোবাইল ফোন বন্ধ না রাখলে চিনে জেল-জরিমানারও ব্যবস্থা আছে।