বিরোধী দলনেতা মামলায় শুনানি শেষ হাইকোর্টে, কী রায় এল?

অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রথম বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতে চলেছে। আর আগামীকালই কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) তরফে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা (LoP) হিসেবে তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) বেছে নেওয়ার মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। এর আগে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Sovandeb Chattopadhyay) নাম বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু তৃণমূলের কয়েকজন বিধায়কই প্রস্তাবপত্রে তাদের সই জাল করার অভিযোগ তোলেন। এই নিয়ে শুরু হয় জলঘোলা। আগামীকাল কলকাতা হাইকোর্টের রায় অবশেষে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে জটিলতা কাটাবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

হাইকোর্টের রায় বেরোচ্ছে কাল

বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর গত ১৩ মে তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে চিঠি দিয়ে জানায় যে, দলের ৮০ জন নির্বাচিত বিধায়কের সম্মতি সহ তৃণমূলের দলীয় পরিষদের নেতা নির্বাচন করা হচ্ছে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে। কিন্তু বিধানসভার সচিবালয় তাকে বিরোধী দলনেতা স্বীকৃতি দেয়নি। তাই বালিগঞ্জের বিধায়ক আরটিআই (RTI) করে জানতে চান, অষ্টাদশ বিধানসভা গঠন ও প্রথম অধিবেশন সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও কেন তাকে বিরোধী দলনেতা করা হচ্ছে না? 

অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী নেতার স্বীকৃতি দিয়েছেন অধ্যক্ষ। তার এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করেন শোভনদেব। সেই মামলা শুনানি শেষ হয়েছে আজ, বুধবার। বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জানিয়েছেন আগামীকাল সকালে রায় ঘোষণা করবেন তিনি। 

মামলার শুনানি চলার সময় বিচারপতি বারবার বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে জিজ্ঞাসা করেছেন তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করার প্রস্তাব পাওয়া সত্ত্বেও কেন তিনি অপেক্ষা করলেন এবং অবশেষে ৩ জুন বিরোধী দলনেতা নিযুক্ত করলেন? এর জবাবের রথীন্দ্রনাথ বসু জানান ১৩ মে তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রস্তাব আসার পর কবে ৮০ জন বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক ও মিটিং রেজল্যুশন ঠিক হয়েছে, তা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এরপর দুজন বিধায়ক রেজল্যুশনে সই জাল করার অভিযোগ তোলেন। এই সমস্ত কারণের জন্যই তিনি অপেক্ষা করেছিলেন পরে ৩ জুন ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৬ জন উপস্থিত থেকে বিরোধী দলনেতা এবং চিফ হুইপ নিযুক্ত করার বিষয়ে প্রস্তাব দিয়েছেন। ফলে ওইদিন অধ্যক্ষকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। 

এর পাল্টা তৃণমূলের পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় কে? তিনি কি দলের সেক্রেটারি নাকি প্রেসিডেন্ট? বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবেন নাকি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়? তার উত্তর পাওয়া যাবে  হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ে। তাই আগামীকালের রায় জানার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন রাজ্যবাসী।

Leave a Comment