বিহারের হাসপাতালের ICU-তে ভয়াবহ আগুন, ঝলসে মৃত্যু কমপক্ষে ৪ রোগীর

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ দিল্লির পর এবার বিহার। হাসপাতালের আইসিইউ (ICU) বিভাগে আগুন লেগে (Bihar Hospital Fire) মৃত্যু হল অনেকের। আরও সবথেকে মর্মান্তিক বিষয় হল, রোগীদের শুশ্রূষা না করে হাসপাতাল থেকে স্বাস্থ্য কর্মীদের বিরুদ্ধে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ অবধি। দিল্লির পর এবার এই ঘটনায় মানুষ রীতিমতো শিউরে উঠেছেন। কোথায় মানুষের নিরাপত্তা? উঠছে প্রশ্ন।

ICU-তে আগুন লেগে মৃত কমপক্ষে ৪

জানা গিয়েছে, বিহারের মুজাফফরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর মিলেছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ভোর ৩টের দিকে মুজাফফরপুরের বৃহত্তম হাসপাতাল প্রসাদ হাসপাতালের আইসিইউতে ভয়াবহ আগুন লাগে, এতে বেশ কয়েকজন রোগী নিহত হন বলে খবর। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, কমপক্ষে ৪ জনের মৃত্য হয়েছে। আহত অনেক। যদিও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘটনার বিষয়ে দমকল কর্মীরা জানিয়েছেন, আইসিইউটিতে ১৫টি বেড ছিল। বিধ্বংসী আগুন ও ধোঁয়ার ফলে এই মৃত্যুগুলো ঘটে।

মোট ১৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে এখন মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ জনে। বাকি ১১ জন রোগীকে চিকিৎসার জন্য অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এক রিপোর্ট অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত তিনজন রোগী মারা গেছেন। কর্মকর্তারা বলছেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ ১৫ জন রোগীকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগার ঝুঁকি

প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হয়েছিল যে, আইসিইউ-তে শর্ট সার্কিটের কারণে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। খবর পেয়েই দমকল ও পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আশেপাশে থাকা লোকজনের সহায়তায় ভেতরে আটকে পড়া রোগীদের উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। দমকল বিভাগের কর্মী রাম নিবাস পান্ডে জানান, ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটের দিকে তাঁরা খবর পান যে প্রসাদ হাসপাতালের আইসিইউতে আগুন লেগেছে। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছয়টি ফায়ার ট্রাক পাঠানো হয়। ১৫ জনকে উদ্ধার করা হলেও তিনজন রোগী মারা যান।

আরও পড়ুনঃ কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গ যাওয়া আরও সহজ, জুলাই অবধি বিশেষ ট্রেন রেলের

এদিকে, মুজাফফরপুর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানিয়েছেন যে, আইসিইউটিতে রোগীদের জন্য ১৩টি বেড ছিল এবং অতিরিক্ত দুটি বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ভেতরে ১৩ জন নিশ্চিত রোগী ভর্তি ছিলেন। আরও দুজন রোগী থাকতে পারেন। সেখানে অক্সিজেন মেশিন, হার্ট মনিটর এবং অন্যান্য সরঞ্জামসহ অসংখ্য যন্ত্রপাতি রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই মেশিনগুলোর কোনো একটিতে শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লেগে থাকতে পারে। ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় রোগীদের অবস্থার অবনতি ঘটে। উদ্ধার অভিযান সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরও জানা যাচ্ছে যে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।

Leave a Comment