প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বাংলায় (West Bengal) একে একে কাজ করে চলেছে বিজেপি সরকার। আর এবার নজর রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং চিকিৎসার পরিকাঠামোর উপর। অ্যাপ-ক্যাব অ্যাম্বুলেন্স (App Cab Ambulance) থেকে বেসরকারি হাসপাতালে মিলতে চলেছে ফ্রি বেড, বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এমনই স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তবে কি পরিবর্তনের বাংলায় এবার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বিপুল উন্নতির ঝড় আসতে চলেছে?
স্বাস্থ্য পরিষেবায় একগুচ্ছ পরিকল্পনা
বিগত কয়েকদিন ধরে স্বাস্থ্য পরিষেবায় একাধিক উন্নত পরিষেবা আনার জন্য সরকারি হাসপাতালগুলিতে সারপ্রাইজ ভিজিট করে চলেছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। এমতাবস্থায় আজ সোমবার বিধানসভায় এসে একগুচ্ছ পরিকল্পনা পেশ করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ সহায়তার আওতায় প্রায় ৭৫৪ কোটি টাকার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করা হয়েছে। শুধু তাই নয় স্বাস্থ্য বাজেটের সার্বিক নিরিখে প্রায় হাজার কোটি টাকারও বেশি খরচের রূপরেখা তুলে ধরে বাংলাকে বিশ্বমানের চিকিৎসা পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।
বেসরকারি হাসপাতালে মিলবে ফ্রি বেড
জানা গিয়েছে, হাসপাতালগুলোর আধুনিকীকরণের জন্য কলকাতার আইপিজিএমআর এসএসকেএম হাসপাতালে ১৩১টি পেইং বেড, কেবিন ও মড্যুলার ওটি-সহ নতুন ১০ তলা উডবার্ন ওয়ার্ড এবং রোবোটিক সার্জারি চালু করা হচ্ছে। এসএসকেএম এবং এনআরএস-এ বসছে ১২৮-স্লাইস সিটি স্ক্যান। এ ছাড়াও কলকাতা ও বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে নতুন ক্যাথল্যাব এবং কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছয় তলা নতুন রোগী পরিষেবা ভবন তৈরি হতে চলেছে। সব মিলিয়ে পিপিপি মডেলে রাজ্যে পাঁচটি আঞ্চলিক চিকিৎসা কেন্দ্রও গড়া হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়াও সরকারি হাসপাতাল থেকে রেফার হওয়া রোগীদের বেসরকারি হাসপাতালের মোট শয্যার ১০ শতাংশ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সংরক্ষিত থাকবে।
সুন্দরবনে ২১টি নতুন প্রসব কেন্দ্র তৈরি হবে
অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সাধারণের মধ্যে একাধিক বিতর্ক থাকলেও এবার সেই নিয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। দালালরাজ বন্ধ করতে GPS ট্র্যাকিং-সহ অ্যাপ-ক্যাব অ্যাম্বুলেন্স চালু করার পরিকল্পনা নিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি সুন্দরবনের জন্য থাকছে ৬টি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স ও ২টি ভাসমান মোবাইল মেডিকেল ইউনিট। এবং ২১টি নতুন প্রসব কেন্দ্র এবং চার জায়গায় নতুন এসএনসিইউ ইউনিট তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবীণ রোগীদের জন্য মহকুমা হাসপাতালগুলিতে মিউজিক থেরাপি এবং জেলাগুলিতে জেরিআট্রিক ক্লিনিক শুরু হচ্ছে। এখানেই শেষ নয়, ভেলোর ও মুম্বইয়ে চিকিৎসা করাতে যাওয়া রোগীদের সুবিধার্থে সাশ্রয়ী আবাসনের সংস্থান করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দমদমে ৩ বছরের শিশুকে যৌন হেনস্থা! অভিযুক্তকে আড়াল করে গ্রেফতার তৃণমূল কাউন্সিলর
স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা সূত্রে জানা গিয়েছে মাত্র ৬০ দিনে তৈরি কন্ট্রোল রুম থেকে সমস্ত সরকারি ও পরবর্তীতে বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে ওয়েবকাস্টিংয়ের মাধ্যমে সর্বক্ষণ নজরদারি চালানো হবে। এবং রাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্যসুবিধা বজায় রাখতে আয়ুষ্মান কার্ডের পাশাপাশি প্রতি পরিবার পিছু ৫ লাখ টাকার রাজ্য বীমা সুনিশ্চিত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।