বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিরাট ধাক্কা খেলো ভারতীয় শেয়ার বাজার (Stock Market Crash)। অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং বিশ্বব্যাপী উত্তেজনার কারণে মঙ্গলবার, শেয়ার বাজারে দেখা দিল ভূমিকম্প। আর তাতেই একেবারে ধসে গেল গোটা বাজার (Stock Market)। এদিন, এক ধাক্কায় 1,400 পয়েন্ট কমে গিয়ে গত তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে সেনসেক্স। অন্যদিকে নিফটিও গত পাঁচ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে। আর শেয়ার বাজারে এমন বিপর্যয়ের কারণে 9 লক্ষ কোটি টাকা হারালেন বিনিয়োগকারীরা।
শেয়ার বাজারে বড় ধস
শেষবারের মতো, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছিল নিফটি ফিফটি। সেই ধাক্কার পর আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার প্রায় 280 পয়েন্ট কমে গেল নিফটি। তাতে শেষ পর্যন্ত নিফটি ফিফটি গিয়ে দাঁড়ালো 23,118.60 পয়েন্টে। অন্যদিকে দিনের একেবারে শুরুতেই সেনসেক্স নেমে যায় 74,003.82 পয়েন্টে। এই চরম ধাক্কার ফলে BSE এর বাজার মূলধন নেমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে 472 লক্ষ কোটি টাকায়। যেখানে কিছু মুহূর্তের মধ্যেই 9 লক্ষ কোটি টাকারও বেশি অর্থ খোয়া গেছে বিনিয়োগকারীদের।
ঠিক কোন কোন কারণে ধাক্কা খেলো শেয়ার বাজার?
ভারতীয় শেয়ার বাজারে তীব্র পতন দেখা দেওয়ায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান এবং আমেরিকার মধ্যে চলতি সংঘাত থেকে শুরু করে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণেই ধস নামলো ভারতীয় শেয়ার বাজারে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও বেড়ে গেলে গোটা বিশ্বের তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এদিকে ভারতের মতো অন্যতম প্রধান তেল আমদানিকারক দেশ, এই উত্তেজনার জন্য সরাসরি প্রভাবিত হচ্ছে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে!
📉 CLOSING BELL | 15 SEP 2026
A brutal session on D-Street as the Sensex plunged 1,433 pts from the day’s high, while Nifty slipped below 23,200. More than ₹9 lakh crore was wiped out from BSE-listed market capitalisation.
🔻 Sensex: -777 pts | 74,003
🔻 Nifty 50: -279 pts |… pic.twitter.com/OBvAICp7mV— Soctr.IN (@MySoctr) September 15, 2026
আরও পড়ুন: ভারতকে ‘গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু’ হিসেবে মেনে নিল চিন, বিপাকে পড়বে পাকিস্তান?
সবচেয়ে বড় কথা, ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি 108 ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম পৌছে গিয়েছে ব্যারেল প্রতি 104 ডলারে। এর পাশাপাশি মার্কিন ট্রেজারি বন্ড ইল্ড 2023 সালের পর প্রথমবারের মতো 5 শতাংশের গুরুত্বপূর্ণ সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। যার ফলে একটা বড় অংশের বিনিয়োগকারী সরকারি বন্ড থেকে মোটা রিটার্নের আশায় তাদের অর্থ ইক্যুইটি থেকে সরিয়ে বন্ডে ট্রান্সফার করছেন। এটাও শেয়ার বাজারের পতনের বড় কারণ। এছাড়াও ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি ছন্দ পতনও শেয়ার বাজারের ধাক্কা খাওয়ার ক্ষেত্রে যথেষ্ট!