বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: স্টারলিঙ্ককে (Starlink) ভারতের বাজারে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে কিছু গোষ্ঠী। এমন দাবি এবার উড়িয়ে দিল নরেন্দ্র মোদি সরকার (Central Government)। একেবারে বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, দেশে বর্তমানে স্যাটেলাইট পরিষেবা সহ সব ধরনের টেলি যোগাযোগ পরিষেবার জন্য একটি সুষ্ঠু এবং বৈষম্যহীন ব্যবস্থা রয়েছে। কোনও নির্দিষ্ট সংস্থাকে আলাদা করে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তবে ভারতীয় যোগাযোগ মন্ত্রকের তরফে বিবৃতি জারি করে গোটা বিষয়টি স্পষ্ট করা হলেও ওই বিবৃতিতে মার্কিন ব্যবসায়ী ইলন মাস্ক (Elon Musk) বা স্টারলিঙ্ক কোনও নামই উল্লেখ করা হয়নি।
ঠিক কী দাবি করা হয়েছিল ইলন মাস্কের তরফে?
গতকাল অর্থাৎ বুধবার রাতে নিজের এক্স হ্যান্ডেল থেকে একটি সাহসী পোস্ট করেন মার্কিন শিল্পপতি মাস্ক। সেখানে তিনি একেবারে সরাসরি অভিযোগ করেন, কিছু শিল্প গোষ্ঠী তাঁর কৃত্রিম উপগ্রহ ভিত্তিক ইন্টারনেট সরবরাহকারী সংস্থা স্টারলিঙ্ককে ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে দিচ্ছে। বারবার সংস্থাটিকে নাকি বাধা দেওয়া হচ্ছে। এদিন অভিযোগ করলেও কোনও সংস্থার নাম নেননি মাস্ক। তবে লিখেছিলেন, “আপনারা নিজেরাই বুঝে নিন কারা বাধা দিচ্ছে।”
মাস্কের তরফে এমন অভিযোগ উঠতেই সরাসরি বিবৃতি জারি করে দিল ভারতীয় যোগাযোগ মন্ত্রক। ওই বিবৃতিতে কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করে জানানো হয়, “সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ পরিষেবার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি এক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। জানিয়ে রাখি ভারতে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা সহ সব ধরনের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য একটি সুষ্ঠু এবং বৈষম্যহীন কাঠামো রয়েছে।”
আরও পড়ুন: “তুমি যা করেছো তার জন্য..” মেসির বিদায়ে বড় মন্তব্য রোনাল্ডোর
একই সাথে ওই বিবৃতিতে এও বলা হয়, ভারতে পরিষেবা প্রদানের জন্য লাইসেন্স পাওয়া প্রত্যেক সংস্থাকে সরকারের দেওয়া নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্তাবলি মেনে চলতে হয়। গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্দিষ্ট মানদন্ড রয়েছে, সেটা মেনে চলতে হয়। কেন্দ্রীয় সরকার একেবারে খোলাখুলি জানিয়ে দেয়, এই মুহূর্তে ভারতে স্যাটেলাইট ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা সরবরাহের জন্য তিনটি সংস্থাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। তাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্যবস্থা যাচাই করা হচ্ছে। এই গোটা প্রক্রিয়া শেষ হলেই স্পেকট্রাম বরাদ্দ করার জন্য পরবর্তী ধাপে এগোনো যাবে। সব মিলিয়ে বলাই যায়, ভারতে প্রবেশের বাধা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও মাস্ক সংস্থার দাবি নস্যাৎ করল কেন্দ্রীয় সরকার।