মরিশাসের রাস্তায় দৌড়বে ভারতের ইলেকট্রিক বাস, ৯০টি EV হস্তান্তর করলেন জয়শঙ্কর

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত এবং মরিশাসের মধ্যে সম্পর্ক (India–Mauritius Relations) আরও উন্নত করার জন্য বিরাট পদক্ষেপ নিলেন দেশের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর (S. Jaishankar)। মরিশাস সফরে গিয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলামের হাতে তিনি ৯০টি অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক বাস (Electric Bus) তুলে দিলেন। আর এই পদক্ষেপকে দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সবুজ অংশীদারিত্ব বা গ্রিন পার্টনারশিপের প্রতীক হিসেবেই অভিহিত করলেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

পরিবেশবান্ধব পরিবহনে এবার ভারতের সহযোগিতা

শুক্রবার মরিশাসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ইলেকট্রিক বাসগুলি হস্তান্তর করেছেন জয়শঙ্কর। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লিখেছেন, মরিশাসের প্রধানমন্ত্রী নবীন রামগুলামের হাতে ৯০টি ইলেকট্রিক বাস হস্তান্তর করলাম। এটা টেকসই গণপরিবহণ এবং সবুজ জ্বালানি ব্যবস্থার প্রতি আমাদের যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন। এই বাসগুলি দুই দেশের গ্রিন পার্টনারশিপের প্রতীক হয়ে থাকবে।

এদিকে পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি মরিশাসের স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও বড়সড় অবদান রেখেছে ভারত। বেশ কিছু রিপোর্ট অনুযায়ী, পোর্ট লুইয়ের জহরলাল নেহেরু হাসপাতালে মরিশাসের কিডনি প্রতিস্থাপন কেন্দ্র বা রেনাল ট্রান্সপ্ল্যান্ট ইউনিট উদ্বোধন করেছেন জয়শঙ্কর। তাঁর মতে, এটি কেবলমাত্র মেডিকেল মাইলফলক নয়, বরং মরিশাসের কিডনি রোগীদের জন্য নতুন আশার আলো। এখন থেকে মরিশাসের বাসিন্দাদের আর কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশে ছুটতে হবে না। বাড়ির কাছেই চিকিৎসা মিলবে এবং এতে আর্থিক চাপ আর পরিবারের দুশ্চিন্তে লাঘব হবে।

আরও পড়ুন: দীর্ঘ ৬ বছর কলকাতার সঙ্গে জুড়ছে চিনের কুনমিং, পুনরায় শুরু হচ্ছে বিমান পরিষেবা

এদিকে সফরের অংশ হিসেবে পোর্ট লুইতে আয়োজিত নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী। ভারত এবং মরিশাসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সম্মেলনে সমুদ্র নিরাপত্তা থেকে শুরু করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা আর ভারত মহাসাগর অঞ্চলের দেশগুলির মধ্যে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়। এমনকি জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্যিক ও কানেক্টিভিটির মতো চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আর এই ইলেকট্রিক বাসগুলি দুই দেশের মধ্যে গ্রিন পার্টনারশিপকে আরও উন্নত করবে বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment