মাত্র ১,৮০০ টাকায় ‘দেশি এসি’, অবাক আবিষ্কার ১৬ বছরের কল্যাণীর

অনন্যা সরকার, উত্তর প্রদেশ: ভারতের মতো দেশে বছরের বেশিরভাগ সময়জুড়েই চলে গ্রীষ্মের দাপট। বর্তমান যুগে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ মানুষের কাছে এয়ার কন্ডিশনার আর বিলাসিতার প্রতীক নয়, বরং এটি অনেকের কাছে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তবে এসি খুব একটা সস্তা নয়, তার ওপর প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল মেটাতে গিয়েও নাজেহাল মানুষ। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল পরিবারগুলির তীব্র গরমের সাথে মোকাবিলা করার জন্য এসি কেনার সামর্থ্য থাকে না। তবে এবার তাঁদের কথা মাথায় রেখেই মাত্র ১,৮০০ টাকায় স্থানীয় প্রযুক্তিতে বানানো হয়েছে ‘দেশি এসি’ (Desi AC)। ঝাঁসির ১৬ বছর বয়সী কিশোরী কল্যাণী শ্রীবাস্তবের তৈরি এই বিশেষ শীতলীকরণ যন্ত্রটি ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে।

অত্যন্ত সস্তায় কুলিং সিস্টেম বানালো ১৬ বছরের কিশোরী

জানা গেছে, দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী কল্যাণী এমন একটি কুলিং সিস্টেম বা শীতলীকরণ ব্যবস্থা তৈরি করেছেন, যাকে তিনি ‘দেশি এসি’ নাম দিয়েছেন। প্রচলিত এয়ার কন্ডিশনারের তুলনায় এই যন্ত্রটি তৈরির খরচ খুবই কম, মাত্র ১,৮০০ টাকা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল এটি ব্যবহারের জন্য সাধারণ এসির মতো বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হয় না। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই যন্ত্রটির মূল কাঠামো তৈরি হয়েছে একটি থার্মোকল আইসবক্স দিয়ে এবং এতে একটি ১২-ভোল্টের ডিসি ফ্যান যুক্ত করা হয়েছে। বক্সের ভেতরে রাখতে হয় বরফ এবং ফ্যানটি এই বরফের ওপর দিয়ে বাতাস টেনে নিয়ে তা বাইরের দিকে ছড়িয়ে দেয়। বাতাস চলাচলের জন্য একটি এলবো-শেপড আউটলেট ব্যবহার করা হয়েছে, যার ফলে বরফের সংস্পর্শে শীতল হওয়া বাতাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এই যন্ত্রটি প্রায় এক ঘণ্টা চালিয়ে রাখলে ঘরের তাপমাত্রা ৪ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমবে বলে দাবি করে হচ্ছে। অর্থাৎ, সাধারণ এয়ার কন্ডিশনারের মতো দীর্ঘ সময় ধরে পুরো ঘর ঠান্ডা রাখার বদলে, এটি মূলত ঠান্ডা বায়ুপ্রবাহের জন্য একটি সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। কম খরচে ছোট ঘর বা নির্দিষ্ট কোনো স্থানে গরমের অস্বস্থি কাটানোর জন্য এধরনের ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর হতে পারে।

আরও পড়ুন: উপহাস করত গ্রামবাসী, কোচিং ছাড়া UPSC ক্র্যাক করে সবথেকে কম বয়সী IAS কৃষকের মেয়ে

কল্যাণী শ্রীবাস্তবের এই উদ্ভাবনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিকটি হল এর খরচ। প্রচলিত এসি কেনার জন্য যেখানে হাজার হাজার টাকা খরচ করতে হয় এবং ব্যবহারের সাথে সাথে বিদ্যুৎ বিলও চড়চড় করে বাড়তে থাকে, সেখানে তার তৈরি এই যন্ত্রটি তৈরির খরচ মাত্র ১,৮০০ টাকা। ফলে, স্বল্প আয়ের পরিবারগুলির জন্য এটি খুবই উপযোগী ও সহজলভ্য বিকল্প হবে।

আরও পড়ুন: তৈরি হয়েছিল ৪৫০ কোটি বছর আগে, দিনদিন কুঁকড়ে যাচ্ছে সূর্যের সবথেকে কাছের গ্রহ

তবে, এটিকে প্রচলিত কম্প্রেসার-ভিত্তিক এসির সরাসরি বিকল্প বলা যায় না। “দেশি এসি” মূলত বরফ ও ফ্যানের মাধ্যমে ঠান্ডা বাতাস তৈরি করে। তাই এটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে এর কার্যকারিতার সময়কাল, শীতলীকরণের ক্ষমতা ও বরফের প্রয়োজনীয়তার মতো বিষয়গুলিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবুও, কল্যাণীর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। এই “দেশি এসি” তৈরি করার মধ্যে দিয়ে এটাই প্রমাণ হয় যে প্রয়োজনীয়তা, সীমিত সম্পদ ও কৌতূহলের সঠিক ব্যবহার করে কীভাবে নতুন ও কার্যকরী কিছু সৃষ্টি করা যায়। ঝাঁসির এই কিশোরীর মস্তিষ্কপ্রসূত স্বল্প খরচের কুলিং সিস্টেমটিকে কেবল একটি উদ্ভাবন বলা যায় না, এটি আগামীদিনে সাধারণ মানুষের চাহিদা মেটানোর জন্য সাশ্রয়ী প্রযুক্তির বিকাশের নতুন পথ খুলে দিয়েছে। 

Leave a Comment