মিলবে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, বুলডোজার অ্যাকশনে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: নতুন সরকারের নির্দেশে চলছে সরকারি জমি দখলমুক্ত করার অভিযান। এই অভিযানে নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে বাড়ি ভাঙার অভিযোগ উঠতেই প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। পূর্ব মেদিনীপুরে এই কারণেই দুটি পরিবার ভীষণ রকম ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অপ্রিয় ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুটি পরিবারের জন্য সরকারি খরচে নতুন করে বাড়ি তৈরি করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুধু তাই নয়, নতুন বাড়ি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই পরিবারের সদস্যদের জন্য বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থাও করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দুই পরিবারকে মোট ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কী ঘটেছিল পূর্ব মেদিনীপুরে?

এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালে। জেলার বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সরকারি জমি চিহ্নিত করে তা দখলমুক্ত করার জন্য প্রাথমিকভাবে একটি সমীক্ষা চালানো হচ্ছিল। সেই প্রক্রিয়ায় দুটি বসতবাড়িকে সরকারি জমি দখল দখল করার অভিযোগে চিহ্নিত করা হয়। এরপর পুরসভা এবং রাজস্ব দফতরের আধিকারিকদের উপস্থিতিতে বাড়ি দুটিতে নির্মমভাবেই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। তবে বাড়ির মালিকদের দাবি, সরকারি ভাবে নির্ধারিত সীমানার বাইরে গিয়ে ভাঙচুর করা হয়। অভিযান সীমাবদ্ধতা মাথায় না রেখে তাঁদের সম্পত্তির অনেকখানি অংশ ভেঙে দেওয়া হয়। নিজেদের বসতবাড়ি হারিয়ে তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হন।

নথি খতিয়ে দেখে আদালতের পর্যবেক্ষণ

মামলার শুনানিতে আবেদনকারীরা জানান, উচ্ছেদ অভিযানের সময় মোটেই নির্ধারিত সীমানা মেনে কাজ করা হয়নি। তাঁদের বৈধ জায়গাতেও ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা। অন্যদিকে রাজ্যের তরফ থেকেও দাবি করা হয়, নিয়ম মেনেই উচ্ছেদ অভিযান হয়েছিল এবং সীমানা লঙ্ঘনের কোন উপযুক্ত প্রমাণও নেই। তবে মামলার নথি, জমির মাপজোক সংক্রান্ত তথ্য এবং প্রশাসনিক রেকর্ড খতিয়ে দেখে বিচারপতি পার্থসারথি সেনের একক বেঞ্চ আবেদনকারীদের অভিযোগের সঙ্গে পুরোপুরি সহমত প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী জানানো হয়, সরকারি আধিকারিকরা তাঁদের ক্ষমতার নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করেছিলেন, যার ফলে দুটি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন: বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এই রেশন কার্ড, এখনই এভাবে চেক করুন স্ট্যাটাস

এরপরই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির জন্য বিরাট পদক্ষেপ নেয় কলকাতা হাইকোর্ট। তাঁদের পুনর্বাসনের বিষয়ে নির্দেশ দেয় আদালত। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, ভেঙে যাওয়া দুটি বাড়ি আগামী দুই বছরের মধ্যে সরকারি খরচে নতুন করে তৈরি করে দিতে হবে। তার আগে পর্যন্ত পরিবার দুটির জন্য বিনামূল্যে উপযুক্ত বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে মোট ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের মধ্যে প্রথম ৫ লক্ষ টাকা এবং ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে বাকি ৫ লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনার পর উচ্ছেদ অভিযানের সময় আর এভাবে সীমা অতিক্রম করে নিজের মনমর্জি মতন ঘর-বাড়ি ভেঙে ফেলা হবে না, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। নির্ধারিত আইন মেনে চলা এবং সাধারণ মানুষের সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করার ক্ষেত্রেও আদালতের এই নির্দেশ প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শিক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment