প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের আইনি জটে ফাঁসলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। মুখ্যসচিবকে ‘ভোটচোর’ কটাক্ষ করায় এবার ১০ কোটি টাকার মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিস পাঠালেন মনোজ আগরওয়াল (Manoj Agarwal)। তাঁর অভিযোগ লক্ষ লক্ষ বৈধ বাঙালি ভোটারকে বেআইনিভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার জন্য মুখ্যসচিবকে দায়ী করা হয়েছে। আর তাই সেই গুরুতর অভিযোগ তোলার প্রতিবাদে আইনি লড়াইয়ের পথে নামলেন মুখ্যসচিব।
মুখ্যসচিবকে ‘ভোট চোর’ বলে কটাক্ষ মহুয়ার
এই মুহূর্তে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে ক্রমশ এক মঞ্চে আসছে বিরোধীরা। দিল্লির রাজপথে জোরদার হচ্ছে রাজনৈতিক আন্দোলন। এমতাবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধন এবং ভোটাধিকার থেকে বাঙালিদের বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলে রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালকে সোশ্যাল মিডিয়ায় চরম কটাক্ষ করেছিলেন মমতাপন্থী তৃণমূলের কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁকে রীতিমতো ‘ভোট চোর’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি ‘ইন্ডিয়া ইজ কামিং ফর ইউ নেক্সট’ এবং ‘বাঁচতে পারবেন না’ বলেও হুমকি দিয়েছেন মহুয়া। তাই এবার তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানির ক্ষতিপূরণ দাবি করে আইনি নোটিস পাঠালেন রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল।
আইনি নোটিশ মহুয়াকে
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মনোজ আগরওয়ালের হয়ে মহুয়াকে আইনি চিঠি পাঠিয়েছেন আইনজীবী রুচিরা মান্না। তিনি সেই নোটিসে দাবি করেছেন যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট দুটি পোস্ট সমাজমাধ্যম থেকে মুছে ফেলতে হবে মহুয়াকে। এর সঙ্গে নিঃশর্তভাবে নিজের অভিযোগ প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে তাঁকে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মন্তব্য করবেন না, সেই মর্মে লিখিত অঙ্গীকারও চাওয়া হয়েছে। এছাড়াও এই নোটিশে কৃষ্ণনগরের সাংসদকে হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উল্লেখিত দাবিগুলি পূরণ না হলে মহুয়ার বিরুদ্ধে দেওয়ানি এবং ফৌজদারি আইনে পদক্ষেপ করা হতে পারে।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মীদের স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান কার্ড ফেরানোর নির্দেশ নবান্নর, বেঁধে দেওয়া হল সময়
প্রসঙ্গত, নির্বাচন এবং ভোটাধিকার নিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমনিতেই বেহাল তার উপর নির্বাচন ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে মহুয়ার মুখ্যসচিবের বিরুদ্ধে কটাক্ষ নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি করেছে। নোটিসে মনোজের স্পষ্ট বক্তব্য, ওই পোস্টগুলি তাঁর পেশাগত নিষ্ঠা, সরকারি দায়িত্ব পালনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছে। তিনি কখনও ভোট চুরি বা বেআইনিভাবে কোনও ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন না। এদিকে মুখ্য সচিবের এই আইনি নোটিশ নিয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।