প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) তরফে আচমকা সমস্ত গেস্টহাউস বন্ধের নোটিস! মেটিয়াবুরুজে (Metiabruz) পথ অবরোধ করেছিল স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ, মুহূর্তের মধ্যে ধর্মঘট বড় আকার ধারণ করলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে হাজির হয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। অবশেষে একাধিক বার্তালাপের পর পথ অবরোধ তুলে নিল ব্যবসায়ী বিক্ষোভকারীরা।
ঠিক কী ঘটেছিল?
জানা গিয়েছে, মেটিয়াবুরুজ মূলত কাপড়ের হাটের জন্য বিখ্যাত, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা এখানে এসে মাল কেনে এবং স্থানীয় গেস্ট হাউসগুলোতে থাকেন। কিন্তু আচমকা গেস্ট হাউস বন্ধের নোটিসের মেলায় ব্যবসায় মারাত্মকভাবে ধাক্কা খেলেন ব্যবসায়ীরা। আর তাই এর প্রতিবাদে গতকাল পথ অবরোধ করেছিল স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। গতকাল, শুক্রবার রাতে একাধিক দাবি তুলেছিলেন ব্যবসায়ীরা। বিক্ষোভকারীদের দাবি কেন কোনো সময়সীমা না দিয়েই আচমকা গেস্ট হাউস বন্ধের নোটিশ পেশ করা হয়েছে।
আশ্বাস দেয় পুলিশ প্রশাসন
আচমকা সমস্ত গেস্টহাউস বন্ধের নোটিস নিয়ে বিক্ষোভকারীদের আরও দাবি ছিল যে যতক্ষণ না পর্যন্ত পুলিশ প্রশাসন বা রাজ্য সরকারের তরফে কোনরকম সাহায্য মিলছে ততক্ষণ রাস্তায় কোন গাড়ি যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না। ধীরে ধীরে এই ধর্মঘট যখন আরো ভয়ংকর হতে থাকলেও ঠিক তখনই পরিস্থিতি সামলাতে রাজাবাগান থানার পুলিশ প্রশাসন গিয়ে হাজির হয়েছিল। শেষে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে নানা রকম কথাবার্তার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয় এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।
আরও পড়ুন: উত্তমকুমারের মামারবাড়িতে পুলিশকে ঘরে আটকে নিগ্রহ, গ্রেপ্তার ৪
প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক সময়ে কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও পরিকাঠামো না থাকায় প্রশাসন বহু হোটেল ও গেস্ট হাউস বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, অনির্দিষ্টকালের জন্য ওই বহুতলে সবরকম ব্যবসা বন্ধ থাকবে ৷ আসলে কয়েক মাস আগে তিলজলায় একটি বহুতলে অগ্নিকাণ্ডে অসংখ্য মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। শুধু তাই নয়, কিছুদিন আগে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন লেগে যাওয়ার ঘটনায় ভয়ংকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল রাজ্যে। তারাপীঠেও একই ঘটনা ঘটেছিল। যার অন্যতম কারণ ছিল, ওই হোটেলে অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা ছিল না।