অনন্যা সরকার, কলকাতা: ডিজিটাল ইন্ডিয়া (Digital India) গড়ে তুলতে কেন্দ্রীয় সরকার যে একাধিক ইতিবাচক উদ্যোগ নিয়েছে, তা তথ্য ও পরিসংখ্যানে স্পষ্ট হচ্ছে। নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) নেতৃত্বে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে, ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫.১৫ কোটি থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ১০৯.২৭ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। ভারত সরকারের অন্যতম উচ্চাভিলাষী প্রকল্প ভারতনেট (BharatNet)-এর অগ্রগতিও ব্যাপক মাত্রায় হচ্ছে। ২.২১ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতকে ইতিমধ্যেই এই পরিষেবা প্রদানের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।
৮৪ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বেড়েছে গত ১২ বছরে
লোকসভায় কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২০১৪ সালের মার্চ মাসে ছিল ২৫.১৫ কোটি। আর ২০২৬ সালের মার্চে এসে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৯.২৭ কোটি। এর পাশাপাশি, এই ১২ বছরের সময়সীমার মধ্যে টেলিফোন সংযোগও ৯৩.৩ কোটির থেকে বেড়ে ১৩৩ কোটিরও বেশি হয়েছে। অর্থাৎ পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে, ১২ বছরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৮৪ কোটি বৃদ্ধি পেয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সময়েই ভারতবর্ষ নতুন প্রজন্মের ইন্টারনেট সংযোগ পেয়েছে, চালু হয়েছে লেটেস্ট ৫জি (5G) পরিষেবা। রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio)-র মতো টেলিকম ও ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী কোম্পানিগুলি দ্রুত দেশের একটি বড় মার্কেট শেয়ার দখল করে নিতে সক্ষম হয়েছে। তারসাথে সাথে ডেটা প্ল্যানগুলো উল্লেখযোগ্যভাবে সস্তা হয়েছে এবং বিনামূল্যে আনলিমিটেড ৫জি পরিষেবাও দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাহুল গান্ধী বা আরশোলার অভিজিৎ নয়, যুব সমাজের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হলেন নরেন্দ্র মোদী
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রের ভারতনেট প্রকল্প সারা দেশের গ্রামীণ এলাকাগুলোকেও ধীরে ধীরে সংযুক্ত করছে। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের মাধ্যমে ২.২১ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েতকে ইন্টারনেট পরিষেবার জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়াও, ভারতনেট পয়েন্টস অফ প্রেজেন্স (PoP) অ্যাক্টিভ করা হয়েছে প্রায় ৮০,৪৭২টি গ্রাম পঞ্চায়েতে।
তবে মোদী সরকারের অধীনস্থ, বিএসএনএল (BSNL) এখনও অন্যান্য টেলিকম সংস্থাগুলোর চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। দেশে ২০২২ সালে ৫জি পরিষেবার সূচনা হলেও, বিএসএনএল-এর ৫জি পরিষেবা এখনও চালু করা যায়নি। এর ৪জি সার্ভিসটি সবে গত বছর চালু হয়েছে। বর্তমানে দিল্লি এবং মুম্বাইয়ের মতো শহরগুলিতে বিএসএনএল ৫জি চালু করার পরিকল্পনা চলছে।
আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই শেষমেষ ভবানী ভবনে হাজিরা সুমিত রায়ের
উল্লেখযোগ্যভাবে, বিভিন্ন পেমেন্ট পদ্ধতির মধ্যে ইউনিফাইড পেমেন্ট ইন্টারফেস বা ইউপিআই (UPI) ভারতে যুগান্তকারী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। গ্রামীণ এলাকার মানুষজনও এখন স্বাচ্ছন্দ্যে ইউপিআই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। বর্তমানে ৭৩১টি ব্যাংক ইউপিআই পেমেন্ট স্যাপার্ট করে। প্রায় ৫৫.৪৯ কোটিরও বেশি মানুষ এবং ৬.৫ কোটি ব্যবসায়ী এই পরিষেবার সুবিধা পান। ইউপিআই পেমেন্টের ক্ষেত্রে ফোনপে (PhonePe) এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় সংস্থা, এর পরেই স্থান দখল করেছে গুগল পে (Google Pay) এবং পেটিএম (Paytm)।