আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রীর (Chief Minister) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার (Cabinet) বৈঠকে মোট ২২টি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের কর্মীদের ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা, হাইকোর্টের আধিকারিকদের জন্য আবাসন নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মতো একাধিক বিষয় এই বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন দফতরের কাজ ও পরিষেবা সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কর্মীর ক্যাশলেস চিকিৎসা
উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) যোগী আদিত্যনাথের (Yogi Adityanath) মন্ত্রিসভার অনুমোদিত প্রস্তাবগুলির মধ্যে অন্যতম হল শিক্ষা দফতরের অধীন কর্মীদের ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা। এই সিদ্ধান্তে প্রায় ১.৭৫ লক্ষ কর্মী উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, প্রয়াগরাজে হাইকোর্টের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির আধিকারিকদের জন্য ৮৪৫টি আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনাতেও অনুমোদন মিলেছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পে আনুমানিক ৫৪৩ কোটি টাকা খরচ হবে। সমগ্র নির্মাণকাজটি ইপিসি (EPC) পদ্ধতিতে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বৈঠকে পশুপালন খাতের উন্নয়ন নিয়েও বিরাট উদ্যোগ নিয়েছে যোগী সরকার।। গবাদি পশুর বিমা প্রকল্পে বিমার প্রিমিয়ামের ৮৫ শতাংশ সরকার বহন করবে এবং বাকি ১৫ শতাংশ দিতে হবে সংশ্লিষ্ট পশুপালককে। দুধ উৎপাদন বাড়ানো, উন্নত জাতের পশু পালনে উৎসাহ দেওয়া এবং পশুপালনের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: কৃত্যকর্মের ফল! বেহালা কাণ্ডে একই কায়দায় বিবস্ত্র করে ঘোরানো হল অভিযুক্তদের
এ ছাড়া রাজ্যে নৌকা ও স্টিমার-সহ বিভিন্ন জলযানের নিবন্ধনের জন্য নতুন নিয়ম অনুমোদন করা হয়েছে। যাত্রী ও নৌকার চালকদের বিমার ব্যবস্থাও এই নিয়মের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ময়নপুরীতে সৈনিক স্কুলের সম্প্রসারণের জন্য বিনামূল্যে জমি দেওয়ার প্রস্তাবেও সম্মতি জানিয়েছে মন্ত্রিসভা। পাশাপাশি ঝাঁসি ও ললিতপুরে সমবায় বিভাগের গুদামের জায়গা বৃদ্ধির জন্য জমি সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিনা টিকিটে ধরা পড়লেই শ্লীলতাহানির মিথ্যা অভিযোগ! TTE-দের সুরক্ষায় রেল বোর্ডকে চিঠি
গ্রেটার নয়ডায় প্রগতি রোবোটিক্স পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনাতেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য এক টাকার লিজে জমি দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশের সাইবার সিকিউরিটি অপারেশন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব তিন বছরের জন্য আইআইটি কানপুরকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার জন্য প্রায় ১০৪ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সংস্থার সংযুক্তিকরণ ও বিভাজনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে এদিনের বৈঠকে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। এখন এই গৃহীত পরিকল্পনাগুলি কতটা বাস্তবায়িত হয় সেই দিকেই নজর মানুষের।