বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অবশেষে ককরোচ জনতা পার্টির (Cockroach Janta Party) সাথে বৈঠকে বসেছে কেন্দ্র। সোমবার, প্রথমবারের জন্য আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government) সাথে আলোচনায় বসার প্রস্তাব দেন। আর তারপরেই এদিন দুপুর নাগাদ ককরোচ জনতা পার্টি বা CJP সদস্য সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কার বৈঠক হয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার। আর সেই বৈঠকেই নাড্ডার হাত ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে মূলত তিনটি দাবি রাখে আরশোলাদের দল!
কেন্দ্রের কাছে তিন দাবি CJP-র
দীর্ঘ এক মাস ধরে, যন্তর মন্তরে অনশন করছিলেন অভিজিৎ দীপকেরা। সেই অনশনে যোগ দিয়েছিলেন সমাজ সেবক তথা বিখ্যাত বিজ্ঞানী সোনাম ওয়াংচুক। দিনের পর দিন নিজের খুদা সংবরণ করে অনশন করছিলেন তিনি। দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির ওই অনশন মঞ্চে হাজির হয়েছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পড়ুয়ারা। দাবি ছিল দেশের শিক্ষাব্যবস্থার স্বার্থে বর্তমান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
প্রথমদিকে কেন্দ্রের তরফে আরশোলাদের সাথে কোনও রকম যোগাযোগ করা হয়নি। বরং সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের তরফে বিজ্ঞানী সোনাম ওয়াংচুককে বলপূর্বক অনশন মঞ্চ থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর তারপরই 20 জুলাই NEET এর মতো কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার প্রতিবাদে এবং সমাজ কর্মী ওয়াংচুকের সমর্থনে CJP এর সাথে আন্দোলনে পা বাড়ায় লাখ লাখ মানুষ! আর এই দিনই CJP সদস্যদের সাথে আলোচনায় বসতে রাজি হয়ে যান কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা।
এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে দেখা করার পর তাঁর কাছে মূলত তিনটি দাবি রেখেছিলেন ককরোচ জনতা পার্টির সদস্যরা। প্রথম দাবি ছিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। দ্বিতীয় দাবি ছিল, মৃত NEET পরীক্ষার্থীদের পরিবার পিছু 1 কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং তৃতীয় দাবি ছিল, বিজ্ঞানী তথা সমাজকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে দ্রুত মুক্তি দেওয়া। এছাড়াও দিল্লি পুলিশকে বল প্রয়োগ বন্ধের নির্দেশ দেওয়ারও আবেদন জানান তাঁরা।
অবশ্যই পড়ুন: বাথরুমে গিয়ে আত্মঘাতী ত্রিপুরার ডিজিপি, কে এই অনুরাগ ধনখর? চিনে নিন
প্রসঙ্গত, এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাথে আলোচনার পর তাঁর হাতে দাবিপত্র তুলে দিতেই জেপি নাড্ডা নাকি CJP সদস্যদের যন্তর মন্তর থেকে অনশন তুলে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন। একই সাথে এও জানা গিয়েছে, আলোচনার পর আন্দোলনকারীদের নাড্ডা জানিয়েছেন, সরকারের সাথে প্রত্যেকের প্রাথমিক দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সাথে লিখিত দাবিও গ্রহণ করা হয়েছে সরকারের তরফে। সরকার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে কাজ করবে বলেও আশ্বস্ত করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। একই সাথে দিল্লি পুলিশকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।