বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: শেষমেষ সৌদি আরবের হয়ে ময়দানে নেমেই পড়ল মক্কা চুক্তির (Mecca Deal) দুই শরিক তুরস্ক এবং পাকিস্তান (Pakistan)। সাম্প্রতিক সময়ে বারবার ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলায় ল্যাজে গোবরে অবস্থা হয়েছে সৌদির। তাদের প্রধান বাণিজ্য পথ বাব-আল মান্দেব সহ ইয়েমেনের একাধিক এলাকা বর্তমানে হুথিদের দখলে। তাই সৌদি বিরোধী শক্তিকে আটকাতে এবং বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে মক্কা চুক্তি কার্যকর করে তুরস্ক এবং পাকিস্তান উভয় দেশই সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সৌদিতে যাচ্ছে পাকিস্তান এবং তুরস্কর সেনা
গত আগস্ট মাসেই সৌদি আরব, তুরস্ক এবং পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল মক্কা চুক্তি। সেই চুক্তির শর্ত ছিল, তিন দেশের মধ্যে যদি কোনও একটি দেশের উপর তৃতীয় শক্তি হামলা চালায় সে ক্ষেত্রে সেই হামলাকে বাকি দুই দেশ নিজেদের উপর হওয়া হামলা হিসেবেই বিবেচনা করবে এবং পদক্ষেপ নেবে। দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের উপর হামলা চালিয়ে এসেছে ইয়েমেনের হুথিরা। মক্কা চুক্তি স্বাক্ষর করার পর প্রাথমিকভাবে বন্ধুর পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিলেও সরাসরি ময়দানে নামতে দেখা যায়নি পাকিস্তান বা তুরস্ক কাউকেই।
তবে সোমবার, রিয়াদে বিশেষ বৈঠকের পর কার্যকর হয়ে গেল মক্কা চুক্তি। জানা যাচ্ছে, এদিন সৌদিতে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিন দেশের প্রতিনিধিরা। তুরস্ক এবং সৌদি আরবের পাশাপাশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও মন্ত্রীদের ছিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির থেকে শুরু করে বিদেশমন্ত্রী ইসাক দার ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খজা আসিফ। সেই বৈঠকেই নাকি সিদ্ধান্ত হয়েছে বন্ধু সৌদির উপর এমন হামলা কিছুতেই বরদাস্ত করবে না বাকি দুই দেশ। তাই মক্কা চুক্তি কার্যকর করে শর্ত অনুযায়ী হুথিকে ঠেকাতে আরব দেশে যৌথভাবে সেনা পাঠাতে চলেছে তুরস্ক এবং পাকিস্তান।
আরও পড়ুন: টিম ইন্ডিয়া থেকে ছিটকে যাওয়ার পর এবার মুম্বই দল থেকেও বাদ, কেরিয়ার শেষ সূর্যর?
বলে রাখা প্রয়োজন, সৌদি আরবকে হামলার হাত থেকে বাঁচাতে পাকিস্তান এবং তুরস্ক সেনা পাঠালেও ঠিক কতজন সদস্যের সামরিক বাহিনী পাঠানো হবে তা জানানো হয়নি। একই সাথে দুই দেশ সেনাবাহিনী ময়দানে নামালেও তাঁরা সৌদির জন্য সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে নামবে নাকি দেশটির সামরিক পরিকাঠামো থেকে শুরু করে অন্যান্য অংশের দেখভাল করবে সেটাও আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি। তবে মনে করা হচ্ছে, খুব শীঘ্রই এ নিয়ে তিন দেশের তরফে নতুন ঘোষণা আসতে পারে।