বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: ফিলাডেলফিয়ায় সর্বশক্তি নিয়ে ইরাককে ডোবাতে মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স (France)। তবে তাদের পথে শুধু প্রতিপক্ষই কাটা হয়ে দাঁড়ায়নি, সেই সাথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সামনেও মাথা নত করেননি এমবাপেরা (Kylian Mbappé)। এদিন যেন একটা শক্ত লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল ফ্রান্স। উদ্দেশ্য ছিল, সামনে থাকা প্রতিপক্ষ ইরাককে হারিয়ে নক আউট নিশ্চিত করা। শেষ পর্যন্ত সেটাই করে দেখিয়েছে দিদিয়ের দেশঁর তারকাখচিত দল। আটকাতে পারেনি কেউই!
এমবাপের জাদুতে উড়ে গেল ইরাক
বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি হতে পারে তার পূর্বাভাস ছিল আগে থেকেই। ফলে একটা চাপ মাথায় নিয়েই আজ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপে খেলতে নেমেছিল ফ্রান্স এবং ইরাক। ম্যাচের একেবারে শুরু থেকেই আক্রমণে যায় এমবাপের দল। প্রতিপক্ষের দুর্গ ভেঙে বারবার গোল করার চেষ্টা করছিলেন ফ্রান্সের ছেলেরা। ইয়াকও অবশ্য ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নয়। বল পায়ে মাঠে সহজ সহজ পাস খেলে প্রতিপক্ষের ছেলেদের চোখ এড়াতে চাইছিল তাঁরা। এরই মাঝে সুযোগ বুঝে মাইকেল ওলিসের সঙ্গে পাস খেলতে খেলতেই জোরালো শট করে 14 মিনিটের মাথায় দলের জন্য প্রথম গোলটা করেন এমবাপে। আটকে যায় প্রতিপক্ষ!
খেলা যখন 27 মিনিটে সুযোগ পেয়েছিল ইরাকও। ঠিক এই সময় বক্সের ডান দিক থেকে ডস্কির ক্রস পেয়ে আলি আল হামাদি হেড করলেও বল জালে গিয়ে পড়েনি। যার ফলে একপ্রকার জীবন দান পায় ফ্রান্স। এরপর পাল্টা আক্রমণে নামে তারাও। ঠিক সেই সময় অঝরে নামে বৃষ্টি। তার মধ্যে দিয়েই চলতে থাকে খেলা। তবে 30 মিনিটের মাথায় বজ্রবিদ্যুৎ ও বৃষ্টি না থামলে খেলা আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয় ম্যাচ।
খারাপ আবহাওয়ার কারণে দর্শকদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছিল। স্টেডিয়ামের স্ক্রিনে বারবার ভেসে উঠছিল সেই বার্তা। এভাবে ফ্রান্সের ম্যাচে দীর্ঘক্ষণ বৃষ্টির দাপট চলার পর 2 ঘন্টা 15 মিনিট কাটিয়ে শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধের খেলা। দীর্ঘ সময় পর মাঠে নেমেই যেন খিদে বেড়ে গিয়েছিল ফ্রান্সের। সেই মতোই 54 মিনিটের মাথায় ইরাককে দ্বিতীয় গোল খাওয়ান এমবাপে। তাতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন ফ্রান্সের বাকিরা। ফ্রান্সের তৃতীয় গোলটি অবশ্যই এসেছিল 66 মিনিটে। মাইকেল ওলিসের থ্রু থেকে তৃতীয় গোলটি করেন দেম্বেল। আর সেটাই ফ্রান্সের ভাগ্য লিখে দিয়েছিল। ওদিকে 3-0 ব্যবধানে হেরে নাক কাটা যায় ইরাকের।
অবশ্যই পড়ুন: হাইকোর্টে গ্রহণ মমতার ভবানীপুর নির্বাচনী মামলা, বড় নির্দেশ বিচারপতির
প্রসঙ্গত, আজ দেশের হয়ে 100 তম ম্যাচে পরপর দুটি গোল করে কামাল দেখিয়েছেন এমবাপেও। গার্ড মুলার এবং রোনাল্ডো নাজিরিওর যথাক্রমে 14 ও 15 গোলের রেকর্ড ভেঙে মিরাস্লোভ ক্লোজের 16 গোলের রেকর্ড স্পর্শ করেন এমবাপে। ফলে এই মুহূর্তে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। সামনে রয়েছেন আর্জেন্টাইন রাজপুত্র লিওনেল মেসি। তাঁর গোল সংখ্যা আজ পর্যন্ত 18। সেটা টপকাতে গেলে পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও গোলের পর গোল করতে হবে ফ্রান্সের ছেলেকে।