“সনাতনী হিন্দুরাই সবথেকে বেশি বাল্য বিবাহ করে” কল্যাণের মন্তব্যে বিতর্ক

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে বেড়েই চলেছে বাল্য বিবাহ (Child Marriage), ১৮ বছরের আগে সন্তান প্রসবের নিরিখে গোটা দেশে শীর্ষে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)। আর এই বেআইনি প্রথা রুখতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ১৮ বছরের আগে যে মেয়েরা সন্তানের জন্ম দিয়েছেন, তাঁদের স্বামীর বিরুদ্ধে পকসো আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। শুধু তাই নয় যাঁরা বিয়ে দেবেন, সেই পুরোহিত বা কাজিদেরও ছাড় দেওয়া হবে না। আর এই পদক্ষেপে পাল্টা বিজেপিকেই দুষলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)।

কী বলছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়?

প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন যে, “ বাল্যবিবাহ করলে সরকারের কোনো বেনিফিট বা ভাতা পাবে না, সে রাস্তায় যত গড়াগড়ি কেউ খাক না কেন..” এবার সেই প্রসঙ্গে শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপির ঘরেই বাল্য বিবাহ বেশি পাবেন। সনাতনী হিন্দুরাই তো সবথেকে বেশি বাল্য বিবাহ করেন। যদি পকসো আইনে দোষী হয়, তাহলে জেল দিয়ে দিতে পারে। কিন্তু ভাতা বন্ধ করতে পারে না। বাল্য বিবাহ প্রথম বন্ধ করেছেন রাজা রামমোহন রায়। চাইল্ড লেবার, সবাই বন্ধ করেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও হচ্ছে।” যদিও এই মন্তব্যে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।

পাল্টা প্রতিক্রিয়া সুকান্ত মজুমদারের

সাংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে সুকান্ত মজুমদার, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি কটাক্ষ করে বলেন যে, ”কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। যখন পরিসংখ্যান আসছে, দেশের মধ্যে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যক মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক অবস্থাতেই প্রেগন্যান্ট হয়ে যাচ্ছে। তাহলে সেই পরিসংখ্যান তো মিথ্যা বলছে না। তাহলে এই মেয়েগুলো তো অন্ততপক্ষে ৯ মাস আগে গর্ভবতী হয়েছে। সে সময় তো তৃণমূল সরকার ছিল। তার মানে তৃণমূল সরকারের সমস্ত প্রকল্প ব্যর্থ হয়েছে।” বাল্য বিবাহ নিয়ে চমকে দেওয়া পরিসংখ্যান সামনে এসেছে মালদা জেলাতেও।

আরও পড়ুন: স্কুলে ঢুকে শিক্ষিকাকে মারধর, হুমকি! ভয়ঙ্কর কাণ্ড গোবরডাঙায়

প্রসঙ্গত, সমাজকল্যাণ দফতরের শিশু ও নারী কল্যাণ সমিতির প্রাক্তন চেয়ারপার্সন চৈতালি সরকার জানিয়েছেন, “পূর্বতন সরকারের আমলে বাল্যবিবাহ নিয়ে বারবার রিপোর্ট করা হয়েছিল কিন্তু অভিযোগ, প্রশাসনের তরফে তেমন হেলদোল সে সময়ে দেখা যায়নি। এছাড়াও, তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারের সময়, গত মে মাস পর্যন্ত গ্রামে গ্রামে এই নিয়ে কাজ করে যে রিপোর্ট সামনে এসেছে তা আরও সাংঘাতিক ছিল। আশঙ্কা করা হচ্ছে এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্র জড়িত রয়েছে।

Leave a Comment