বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী কী করবেন, রাজ্যবাসীকে সে সবটাই জানিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি মতোই কাজ করছেন মুখ্যমন্ত্রী। কমবেশি প্রত্যেকেরই মনে আছে, ভোটের আগে ভারতীয় জনতা পার্টির তরফে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বাংলায় ক্ষমতায় এলে 45 দিনের মধ্যে চালু হবে সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission)। যেমন কথা, তেমন কাজ। আগেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার অনুমোদন দিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বর্তমানে সেটাই কার্যকর করার প্রস্তুতি চলছে।
কর্মীদের বেসিক পে ছাড়িয়ে যেতে পারে 2 লাখ টাকা
রাজ্যে ষষ্ঠ পে কমিশনের মেয়াদ ছিল গত বছর অর্থাৎ 2025 সালের 31 ডিসেম্বর পর্যন্ত। ফলে, নিয়ম অনুযায়ী এ বছরের জানুয়ারি থেকেই নতুন পে কমিশন চালু হওয়ার কথা। তবে পূর্বতন সরকারের আমলে তা সম্ভব হয়নি। এবার রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় আসতেই কার্যকর হতে চলেছে সপ্তম বেতন কমিশন। কমবেশি অনেকেই জানেন, সপ্তম বেতন কমিশনের মূল ভিত্তি হল 2.57 ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। এক কথায়, আগের বেতন কমিশন অর্থাৎ ষষ্ঠ বেতন কমিশনের তুলনায় এই বেতন কমিশনে মূল বেতন 2.57 গুণ বৃদ্ধি পাবে। আর সেটা হলে, কর্মীদের বেসিক পে 2 লাখ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সপ্তম বেতন কমিশনে রাজ্যের কর্মীদের বেতন কাঠামো কেমন হবে?
বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্য সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হয়ে যাওয়ার পর যদি কোনও কর্মীর বেতন বা বেসিক পে 25,000 টাকা থেকে থাকে তবে সেটা 2.57 গুণ বৃদ্ধি পেয়ে হবে 64,250 টাকা। আর যদি কেউ ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতায় 14 শতাংশ DA পেয়ে থাকেন তবে সপ্তম বেতন কমিশনে কেন্দ্রীয় হারে তার DA হবে 50 শতাংশ বা তারও বেশি।
অবশ্যই পড়ুন: টানা ডিউটি করলে ১০ দিন ছুটি, এই কর্মীদের বড় উপহার রাজ্য সরকারের
বলে রাখা প্রয়োজন, রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর হলে এই বেতন কমিশনের আওতায় মোট 18টি স্তর থাকবে। এই স্তরের মধ্যে প্রথম থেকে পঞ্চম স্তর পর্যন্ত সাধারণ এবং গ্রুপ ডি কর্মীরা 18,000 টাকা থেকে 92,300 টাকা পর্যন্ত বেসিক বেতন পেতে পারেন। একইভাবে দ্বিতীয় স্তরে অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে নবম স্তরের কর্মীরা বেসিক বেতন হিসেবে 35,400 টাকা থেকে 1,67,800 টাকা পেতে পারেন। অন্যদিকে দশম থেকে দ্বাদশ এবং ত্রয়দশ থেকে অষ্টাদশ স্তরের কর্মীদের বেসিক পে যথাক্রমে 56,100 টাকা থেকে 2,09,200 টাকা এবং 1,01,500 টাকা থেকে আড়াই লাখ পর্যন্ত হতে পারে। আর এমন খবর প্রকাশ্যে আসতেই আনন্দে গদগদ রাজ্যের কর্মীরা।