সপ্তম পে কমিশনে বেতন বাড়তে পারে ৫২,০০০ টাকা! পোয়াবারো বাংলার সরকারি কর্মীদের

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ ক্ষমতায় এলেই ৪৫ দিনের মাথায় সপ্তম বেতন পে কমিশন (7th Pay Commission) চালু করা হবে। বাংলায় বিধানসভা ভোটের প্রচারে এসে এমনই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এখন সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পালা। সত্যিই কি কয়েকদিনের মধ্যে সপ্তম বেতন পে কমিশন লাগু হবে? কতটাই বাড়বে বেতন? এখন সেই প্রশ্নই তুলছেন রাজ্যের সরকারি কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বিষয়ে কতটা কাজ এগিয়েছেন? সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। আরও বিশদে জানতে চোখ রাখুন আজকের এই প্রতিবেদনটির ওপর।

শীঘ্রই লাগু হচ্ছে সপ্তম বেতন পে কমিশন?

বকেয়া DA, সপ্তম বেতন পে কমিশন নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন করেছেন সরকারি কর্মী থেকে শুরু করে পেনশন প্রাপকরা। তবে নতুন সরকার আসায় সকলে আশাবাদী বলে মনে করা হচ্ছে। শীঘ্রই কি সপ্তম বেতন পে কমিশন লাগু হচ্ছে? বেতন বাড়বে? এই বিষয়গুলি নিয়ে মুখ খুললেন সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘সরকার যদি অ্যাক্ট প্রকাশ করে, তাহলে আমাদের বুঝতে অসুবিধা হবে না, সরকার কোন উপায়ে এই সপ্তম পে কমিশন অ্যাপ্লাই করতে চাইছে। এইভাবে ইউনিফায়েড উপায়ে বলা সম্ভব নয়, কোন বেতন বেড়ে কতটা হবে। কারণ অনেক সময়ে দেখা যায়, ক্যাডার বেসিসে বেতনটা বদলে যায়। রাজ্য সরকারের কোনও কর্মী এমন রয়েছেন, যাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের থেকে বেশি বেতন পান।’

বেতন কতটা বাড়তে পারে?

এই বিষয়ে ভাস্কর ঘোষ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে বলা যেতে পারে, আমাদের এখানে কোনও শিক্ষক ৩৫,০০০ টাকা বেসিক পান, বাইরের রাজ্যে, অসম, বিহার, ঝাড়খণ্ডে, ওড়িশার ক্ষেত্রে বেসিক ৪৪,০০০ টাকা। ৯০০০ টাকার ফারাক, প্রাথমিকের শিক্ষকের ক্ষেত্রেও প্রায় ৮০০০ টাকার ফারাক রয়েছে। তার সঙ্গে সঙ্গে DA দেশে যে আইন মেনে দেওয়া হয়, আমাদের এখানে দেওয়া হত না। সপ্তম পে কমিশন যদি সঠিক ভাবে অ্যাপ্লাই হয়, তার সঙ্গে যদি DA যুক্ত হয়, তাহলে ধরে নেওয়া যায়, কারোর বেসিক যদি ৩০,০০০ টাকা হয়, তাহলে অন্ততপক্ষে ১০-১২ হাজার টাকা বেশি বেতন পাবেন।’

এক রিপোর্ট অনুযায়ী, সপ্তম পে কমিশনের মূল ভিত্তি হল ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। অর্থাৎ, আগের পে-কমিশনের তুলনায় মূল বেতন গড়ে ২.৫৭ গুণ বৃদ্ধি পায়। উদাহরণ হিসেবে, ধরুন একজন রাজ্য সরকারি কর্মচারীর যদি বেসিক ২০,০০০ টাকা হয়, তাহলে ২.২৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হিসাবে বেসিক হবে ৫১,০০ টাকা। আর ষষ্ঠ পে কমিশনে রাজ্যের হারে তিনি যদি ডিএ পান ১৪ শতাংশ, তাহলে এই সপ্তম পে কমিশন লাগু হলে কেন্দ্রীয় হারে বর্তমানে ৫০ শতাংশ বা তার বেশি হবে।

বিশেষ ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রীর

আগামী দিনগুলি পশ্চিমবঙ্গের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পেতে পারেন। এর কারণ আগামী ১৮ই মে মন্ত্রিসভার বৈঠকে রাজ্য সরকার মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং সপ্তম বেতন কমিশন সংক্রান্ত একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই বৈঠকে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবিগুলি গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হবে। উল্লেখ্য, রাজ্য কর্মচারীরা কেন্দ্রীয় সরকারের সমান মহার্ঘ ভাতার দাবি করে আসছেন এবং এই বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। ফলস্বরূপ, নতুন সরকারের কাছে কর্মচারীদের প্রত্যাশা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।

আরও পড়ুনঃ হাওড়া, শিয়ালদা ডিভিশনে ২২টি ট্রেন বাতিল করল পূর্ব রেল, রইল তালিকা

মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, গত মন্ত্রিসভার বৈঠকে কেবল সমাপ্ত ফাইলগুলির উপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী বৈঠকে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে থাকবে মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, আরজি কর মামলা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, ডিএ ও সপ্তম বেতন কমিশনের বিষয়গুলি। তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সরকার কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের কেন্দ্রীয় সরকারের সমান মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

Leave a Comment