অনন্যা সরকার, কলকাতা: রাজ্যে সরকার বদলের পর স্কুল শিক্ষা ও পরিকাঠামোর ক্ষেত্রে বদল আনতে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা দফতর। এবার, পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলিতে (Government School) নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির জন্য একটি অভিন্ন ফি কাঠামো (School Admission Fees) চালু করার পরিকল্পনা করছে রাজ্য সরকার। বর্তমানে স্কুলভেদে ভর্তি ফি ভিন্ন ভিন্ন হয়, তাই স্কুল শিক্ষা দফতর সমস্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি মানসম্মত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজ্যের সব স্কুলে ভর্তির খরচ হবে এক
বৃহস্পতিবার স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মণ জানিয়েছেন যে, সমস্ত সরকার পোষিত ও অনুদানপ্রাপ্ত স্কুলের জন্য একটি অভিন্ন ফি কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে, নির্দিষ্ট ফি কত ধার্য করা হবে, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। নতুন ব্যবস্থা অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত স্কুলকে সরকার-নির্ধারিত কাঠামো অনুসারে ভর্তির ফি সংগ্রহ করতে হবে। শিক্ষা অধিকার আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, সরকারি স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিতে হয় সরকারকে, ফলে, সেই স্তরে কোনো ভর্তি ফি নেওয়া হয় না। উচ্চ প্রাথমিক স্তরে, বার্ষিক ফি হয় ২৪০ টাকা। তবে, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ফি এক একটি স্কুলে এক এক রকম।
কিছু স্কুল নবম ও দশম শ্রেণির জন্য ৪০০ টাকা ও দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ৫০০ টাকা বার্ষিক ফি নিয়ে থাকে। আবার, কিছু প্রতিষ্ঠানে দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান বিভাগের ফি ১,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। শিক্ষা মহল জানাচ্ছে, পরিচালন ব্যয় নির্বাহের জন্য স্কুলগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আলাদা আলাদা ফি সংগ্রহ করতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে, গবেষণাগার ও বিভিন্ন সরঞ্জামের আয়োজনের জন্য উল্লেখযোগ্য খরচ হওয়ায় বিজ্ঞান বিভাগের ফি সাধারণত বেশি হয়ে থাকে। শিক্ষক সংগঠনগুলো দাবি করেছে যে, অনেক স্কুল নিয়মিত বা পর্যাপ্ত কম্পোজিট স্কুল গ্রান্ট না পাওয়ায় আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হচ্ছে।
আরও পড়ুন: অপেক্ষার অবসান! ডিএ নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, পুজোর মুখে সুখবর পেলেন কর্মীরা
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রায় তিন বছরের ব্যবধানের পর রাজ্যের ৮০,৩৭৫টি সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত স্কুলকে গ্রান্ট প্রদান করা হবে। এই উদ্দেশ্যে মোট ২৯৬.৬৪ কোটি টাকা বরাদ্দও করেছে সরকার। স্কুলগুলো তাদের ছাত্রসংখ্যার ওপর নির্ভর করে ১০,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পাবে। এই গ্রান্ট বিদ্যুৎ বিল, নিকাশি সহ বিভিন্ন পরিকাঠামোগত ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে।
এদিকে শিক্ষক সংগঠনগুলো দাবি করছে যে, অভিন্ন ফি কাঠামো বাস্তবায়নের আগে স্কুলগুলোকে পর্যাপ্ত সরকারি অনুদান প্রদান করতে হবে। এছাড়াও, সংগঠনগুলো গ্রাম ও শহর – উভয় জায়গার সব স্কুলে নিয়মকানুন সঠিকভাবে মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তার ওপর নজর রাখার জন্য সরকারি তদারকির প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে।