প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: স্তব্ধ হল বোলপুর (Bolpur) দুর্গাপুর (Durgapur) আসানসোল রুটের বাস পরিষেবা (Bus Service)… কর্মব্যস্ততার মাঝেই চরম দুর্ভোগের মুখে পড়লেন যাত্রীরা। জানা গিয়েছে, সময়সূচি নিয়ে বাস মালিকদের মধ্যে বিতর্ক চরম আকার ধারণ করায় বাস পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। আর তার জেরেই তিনদিন ধরে বন্ধ বোলপুর-দুর্গাপুর-আসানসোল রুটের বাস। এদিকে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এখনও সমাধান না হওয়ায় সোমবার সকালে বোলপুর বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বাসের চালক ও কর্মীরা।
বন্ধ বোলপুর-দুর্গাপুর আসানসোল রুটের বাস
প্রতিদিন বহু মানুষ বোলপুর থেকে ইলামবাজার, দুর্গাপুর ও আসানসোলে যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু বাস পরিষেবায় এবার দেখা গেল অন্য রূপ, বাসের সময়সূচি নিয়ে মালিকদের মধ্যে বাঁধল তুমুল ঝামেলা। আর তাতেই বন্ধ হয় বাস পরিষেবা। প্রায় ৬০টি বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এদিকে এই বাস বন্ধের সরাসরি ধাক্কা পড়েছে যাত্রী এবং বাস ব্যবসায়ীদের উপর। একদিকে বাস কর্মীদের দাবি, বাস বন্ধ থাকায় রোজগার কার্যত বন্ধ হচ্ছে। অথচ সমস্যার সমাধানে এখনও উদ্যোগ নেই। অন্যদিকে নিত্যযাত্রীরা বাস না পাওয়ায় কার্যত বাধ্য হয়ে অটো-টোটো ধরছেন। আর গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া। সবমিলিয়ে চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
ক্ষুব্ধ বাস মালিক সমিতির সদস্যরা
বীরভূম জেলার বাস মালিক সমিতির বোলপুর শাখার সহ-সম্পাদক সুনীল ঘোষ জানিয়েছেন, একটি বাসের ছ’টি ট্রিপের জায়গায় চারটি ট্রিপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইলামবাজার থেকে চলা বাসের পুরানো সময় বদলে বোলপুর থেকে নতুন সময় দেওয়া হয়েছে। এতে অন্য বাসের সময়সূচি ও ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। এদিকে কিছু বাস ছাড়া হলেও কয়েকটি বাস আটকে রাখা হচ্ছে। সেই বাস ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত খরচা হচ্ছে। উঠছে না জ্বালানি ও অন্যান্য খরচও। এই সমস্যা মেটাতে বৈঠক ডাকা হলেও সংশ্লিষ্ট মালিক উপস্থিত না থাকায় সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।
আরও পড়ুন: পুরভোটের আগে মাস্টারস্ট্রোক! একলাফে বাড়িয়ে দেওয়া হল শিলিগুড়ি, দুর্গাপুরের ওয়ার্ড সংখ্যা
অন্যদিকে, গতকাল, রাস্তায় টোটো ও অটোর দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদে নদিয়া জেলা জুড়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে সমস্ত বেসরকারি বাস পরিষেবা। সপ্তাহের শুরুর দিন থেকেই কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, কালনা ঘাট, করিমপুর, পলাশী, নবদ্বীপ এবং দত্তপুলিয়া-সহ জেলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রুটে বাস বন্ধ থাকায় ব্যাপক সমস্যার মধ্যে পড়েছেন সাধারণ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা। বাস চালকদের দাবি প্রশাসনের তরফে রাজ্য ও জাতীয় সড়কে টোটো-অটো দৌরাত্ম্য কমানো না হলে বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে।