বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: সমুদ্রের বুক চিরে তৈরি হবে 60 কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ। সেই বাঁধের উপর দিয়েই তৈরি হতে পারে রাস্তা ও পরিবহন করিডোর। এখানেই শেষ নয়, খম্ভাতের উপসাগরের জল নিয়ন্ত্রণ করে তৈরি করা হতে পারে বিশাল মিষ্টি জলের জলাধার। বিষয়টা খানিকটা স্বপ্নের মতো লাগলেও, এমন মেগা পরিকল্পনাই কাঁধে নিয়েছে ভারত (India)। গুজরাত (Gujarat ) সরকারের এই বিশেষ প্রকল্পের নাম কাল্পসর প্রজেক্ট (Kalpasar Project)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একদিক থেকে যেমন সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের জল সংকটের মোকাবিলা করা যাবে ঠিক তেমনই সড়কপথে দূরত্ব অনেকটাই কমবে সুরাট এবং ভাবনগরের মধ্যে।
কাল্পসর প্রকল্প সম্পর্কে জানুন
মূলত গুজরাত সরকার সে রাজ্যের খম্ভাতের উপসাগরের একাংশে দীর্ঘ জলধার তৈরির যে পরিকল্পনা করেছে সেটাই কাল্পসর পরিকল্পনা বা প্রজেক্ট। এই বিশেষ প্রকল্পের অধীনে, নর্মদা, সাবরমতী, মাহি, ঢাধর সহ বিভিন্ন নদীর মিষ্টি জল নিয়ন্ত্রণ করে একটি বড় জলাধার তৈরির পরিকল্পনা করছে গুজরাত সরকার। আশা করা যাচ্ছে, এই জলাধার তৈরি করা গেলে সেখান থেকেই মিষ্টি জল সৌরাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশে সেচ ও কৃষিকাজে ব্যবহার করা যাবে।
সৌরাষ্ট্রের একাংশের জল সংকট মেটানোর পাশাপাশি সমুদ্রের উপর তৈরি বিশেষ বাঁধের উপরের অংশে হাইওয়ে কাম রেল করিডোর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে সুরাট থেকে ভাবনগরের দূরত্ব সড়কপথে প্রায় 356 কিলোমিটার। তবে প্রস্তাবিত করিডোর তৈরি হয়ে গেলে এই দূরত্ব কমে 177 কিলোমিটার হয়ে যাবে বলেই আশা করা যায়। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক হয়ে যাবে দূরত্ব।
আরও পড়ুন: বিপাকে জ্ঞানেশ কুমার! ফৌজদারী মামাল, SIR নিয়ে SIT গঠনের দাবিতে জল গড়াল সুপ্রিম কোর্টে
এখানেই শেষ নয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমেই 2470 মেগাওয়াট হাইব্রিড নবায়নযোগ্য জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে গুজরাত সরকারের। আপাতত যা খবর, এখনও এই প্রকল্পের কাজ পুরোদমে শুরু হয়নি। বর্তমানে গোটা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগে ডিটেইলড প্রজেক্ট রিপোর্ট বা DPR চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এর আগে গত মে মাসে ভারত এবং নেদারল্যান্ডসের মধ্যে প্রকল্পটির জন্য প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তা সত্বে অনেকেই মনে করছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ আসতে পারে।
যদিও সব ধরনের সমস্যা কাটিয়েই প্রকল্পটিকে বাস্তব রুপ দেওয়ায় লক্ষ্য সরকারের। খরচের প্রসঙ্গে কথা বললে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে 2022 এর একটি রিপোর্টে 1 লক্ষ কোটি টাকা দাবি করা হলেও চলতি বছর পরিবেশগত অনুমোদন সংক্রান্ত নথিতে এই প্রকল্পের খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আনুমানিক 1 লাখ 33 হাজার 246 কোটি টাকায়।