বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: দেশের শীর্ষ আদালতকে (Supreme Court) এক মামলায় জামিন নিয়ে পরামর্শ দিতে গিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়লেন পশ্চিমবঙ্গের এক ট্রায়াল জজ। জানা যাচ্ছে, সংশ্লিষ্ট মামলাটির ট্রায়াল প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়ে সুপ্রিম কোর্টকে চিঠি দিয়েছিলেন উত্তর 24 পরগনার (North 24 Parganas) বারাসাতের তৃতীয় আদালত বা ট্রায়াল কোর্টের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক। আর সেই চিঠিতেই জামিন সংক্রান্ত কিছু মন্তব্য ও পরামর্শ দেওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। শুধু তাই নয়, ওই বিচারকের কাছে গোটা বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যাও চাওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের তরফে।
সুপ্রিম কোর্টকে পরামর্শ দিতে গিয়ে বিপাকে বাংলার বিচারক
ঘটনাটির সূত্রপাত, রাজ্যের এক আন্ডারট্রায়াল বন্দির জামিন সংক্রান্ত মামলা থেকে। বিগত পাঁচ বছর ধরে জেলে বন্দি অবস্থায় রয়েছেন ওই আসামি। গত মে মাসে, ওই ব্যক্তির জামিনের আবেদন পুরোপুরি খারিজ করে দিয়ে দ্রুত এই মামলায় ট্রায়াল সম্পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের তরফে তিন মাসের মধ্যে বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্রায়াল শেষ করতে না পারায় গত 11 আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি লেখেন সংশ্লিষ্ট বিচারক।
Live Law এর রিপোর্ট অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টে পাঠানো ওই চিঠিতে ট্রায়াল শেষ করার জন্য আরও কিছুটা সময় চেয়েছিলেন বারাসাতের ওই জজ। সেই চিঠিতে বাকি সব ঠিক থাকলেও তার দুটি অনুচ্ছেদে সুপ্রিম কোর্ট অভিযুক্তকে জামিন দেবে কি দেবে না তা নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য বলা চলে শীর্ষ আদালতকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ওই বিচারক। আর তাতেই ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালতের বিচারপতিরা। যেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের বেঞ্চ।
আরও পড়ুন: আমেরিকায় হিন্দু মন্দিরে ভাঙচুর, ইট মেরে ভাঙা হল কাঁচ, হামলার কারণ কী?
সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ ওই চিঠির বিষয়বস্তু নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করার সাথে সাথে সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রায়াল কোর্টের প্রেসাইডিং অফিসার সুপ্রিম কোর্টের কখন জামিন দেওয়া উচিত আর কখন জামিন দেওয়া উচিত নয় তা নিয়ে পরামর্শ দিতে পারে না। এই ঘটনায় দ্রুত ওই বিচারকের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টারকে। তবে সংশ্লিষ্ট বিচারকের নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেনি শীর্ষ আদালত!