‘সুপ্রিম কোর্টের রায় মতো বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দিন’ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে গেল চিঠি

সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ বিষয়ঃ বকেয়া ডিএ (Dearness Allowance) ইস্যুতে ফের একবার সরব হলেন বাংলার সরকারি কর্মীরা। বিশেষ করে গত ৫ ই ফেব্রুয়ারি বকেয়া ডি.এ./ ডি.আর.সংক্রান্ত মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের যে রায় কার্যকর হয়েছিল সেটা অনুযায়ী সকলের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আর্জি জানালেন ডিএ মামলাকারী মলয় মুখোপাধ্যায়। তিনি যে সরকারকে এই বিষয়ে মেইল করেছেন সেই সংক্রান্ত একটি স্ক্রিনশট নিজের ফেসবুক পোস্টে শেয়ার করেছেন মলয় মুখোপাধ্যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক তিনি কী কী বলেছেন।

সরকারের কাছে ফের একগুচ্ছ দাবি পেশ কর্মীদের

মলয় মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘পূর্বোক্ত রায় নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ ভাবে কার্যকর করার পরিবর্তে ‘আংশিক কার্যকর’ করার নামে রাজ্য সরকার (Government of West Bengal) বিষয়টিকে কর্মী বিরোধী এবং স্বেচ্ছাচারিতার আবর্তে এনে ফেলেছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। রায় পূর্ণাঙ্গ ভাবে কার্যকর করার দাবি রাখছি। ‘রোপা-২০০৯’ এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. গণনা করার এক এবং একমাত্র সূচক ‘এ.আই.সি.পি.আই।’। কিন্তু সরকার বাস্তবে অস্তিত্বহীন তথাকথিত ‘স্টেট বেসড সি.পি.আই.’-এর নামে ‘পরিকল্পিত ভুল’ গণনায় কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের ভয়াবহ ও নজিরবিহীন ক্ষতির শিকার হতে বাধ্য করেছেন। আমরা অবিলম্বে এই ভুল সংশোধন করে ‘এ.আই.সি.পি.আই.’ অনুসারে পুনর্গণনা এবং গণনার দাবি করছি।

তিনি আরও লেখেন, ‘দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সরকার ‘কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’-এ মনিটরিং কমিটিতে দুটি সংগঠনের ‘সাবমিশন’-এর ‘পয়েন্ট ওয়াইজ আন্সার’ দিয়েছেন। কিন্তু মূল মামলাকারী সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভঃ এমপ্লয়িজ’-এর ‘সাবমিশন’-এর কোন ‘পয়েন্ট ওয়াইজ আন্সার’ দেননি। আমরা মনে করছি মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে মনিটরিং কমিটিতে আমাদের ‘সাবমিশন’ আড়াল করতে এ কাজ করা হয়েছে। আমরা দাবি করছি অবিলম্বে ‘সাপ্লিমেন্টারি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট’ মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়ে সরকার মনিটরিং কমিটিতে আমাদের সংগঠনের ‘সাবমিশন’-এর ‘পয়েন্ট ওয়াইজ আন্সার’ যুক্ত করুন। এখনও পর্যন্ত এপ্রিল-২০০৮ থেকে ডিসেম্বর-২০১৯ পর্যন্ত এ.আই.সি.পি.আই. অনুসারে বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. প্রদানের বিষয়ে রাজ্য সরকার ‘গ্রান্ট-ইন-এইড ইনস্টিটিউশন’-গুলির কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী, ওয়ার্ক চার্জড কর্মী, ডি.এ. প্রাপক সরকারি চুক্তিভিত্তিক কর্মী, ডেইলি রেটেড সরকারি কর্মীদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমরা জানি না। অবিলম্বে এনাদের জন্য বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. প্রদানের সময় ভিত্তিক ‘পেমেন্ট সিডিউল’ ঘোষণা করার দাবি জানাচ্ছি।

কপাল কি খুলবে গ্রান্ট ইন কর্মীদের?

এখন প্রশ্নও উঠছে, গ্রান্ট ইন কর্মীদেরও (Employees) কি কপাল খুলবে? এই বিষয়ে মলয়বাবুর আর্জি, ‘রাজ্য সরকার ইতিপূর্বে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টে ‘Estimated Impact on the State Govt. as per Impugned Order’ শিরোনামে প্রদত্ত তালিকায় ‘Grant-in-Aid Employees’ কলমে (কলম নম্বরঃ ৩) আদালতের রায় কার্যকর করতে গ্রান্ট-ইন-এইড ইনস্টিটিউশনের কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত খরচের তথ্য দিয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন যে এই কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আওতাভুক্ত। এখন সরকার কেন অবস্থান বদলে এই কর্মীদের আদালতের রায় অনুসারে বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. পাওয়ার ‘আইনি অধিকার’ অস্বীকার করছেন? সরকার কি এভাবে অবস্থান বদল করতে পারেন? আমরা দাবি করছি এই কর্মীদের ‘আইনি অধিকার’ হিসাবেই বকেয়া ডি.এ./ডি.আর. দিতে হবে। এখনও বিপুল সংখ্যায় কর্মীদের ই-সার্ভিস বুক তৈরি এবং সেগুলি সংশ্লিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার কাজ বাকি। অবিলম্বে, প্রয়োজনে কাজটির আউটসোর্সিং করে, এই কাজ দ্রুত সমাপ্ত করতে হবে। কে.এম.সি. এলাকার ব্যাঙ্কগুলি থেকে পেনশনপ্রাপক সরকারি পেনশনারদের বকেয়া ডি.আর. পাওয়ার জন্য আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? অবিলম্বে এঁদের বকেয়া ডি.আর. রিলিজ করুন সরকার।

আরও পড়ুনঃ শিয়ালদা ডিভিশনের ৩৪ স্টেশনে ব্যবসা করার সুযোগ দিচ্ছে পূর্ব রেল, কীভাবে আবেদন?

তিনি লেখেন, ‘পে-কমিশন সংক্রান্ত একটি জাল সরকারি আদেশনামা সমাজমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হয়। এই নিন্দনীয় প্রয়াস কর্মীসমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করে। এই ধরনের অপরাধমূলক কাজ সরাসরি সরকারের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে চ্যালেঞ্জ করে। অবিলম্বে অপরাধীকে/অপরাধীদের চিহ্নিত করে তার/তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোন দুর্বৃত্ত সরকারি আদেশনামাকে কৌতুকের সামগ্রী করে তোলার দুঃসাহস না করে। অবিলম্বে প্রয়াত পেনশনার/ফ্যামিলি পেনশনারের আইনসঙ্গত উত্তরাধিকারীদের বকেয়া ডি.আর. প্রদানে তৎপর হতে হবে।’

Leave a Comment