স্কুলে পড়িয়ে সেনসাস, শিক্ষকদের নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলল হাইকোর্ট

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: জনগণনার (Census) কাজে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে এবার প্রশ্ন ছুঁড়ল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। শুক্রবার, উচ্চ আদালতের বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের বেঞ্চ শুনানি চলাকালীন রাজ্যে জনগণনার কাজের জন্য শিক্ষক (Teacher) নিয়োগ সংক্রান্ত পরিকল্পনা নিয়ে একপ্রকার অসন্তোষ প্রকাশ করেন! বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, শিক্ষকরা কীভাবে স্কুল সামলে জনগণনার কাজ করবেন? দীর্ঘ পথ অতিক্রম সারা দিনে কি আদৌ এই কাজ করা সম্ভব!

জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে যা জানাল হাইকোর্ট

রাজ্যে (West Bengal)বর্তমানে চলছে অনলাইন জনগণনা বা সেলফ এনুমারেশন। এই প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে আগামীকাল। এরপর 16 আগস্ট থেকে সরকারি কর্মী বা স্কুল শিক্ষকরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার তথ্য সংগ্রহের কাজ করবেন। এ প্রসঙ্গে আগেই স্কুল শিক্ষা দপ্তর জানিয়ে দিয়েছিল, স্কুল ছুটির পর কিংবা সপ্তাহের শেষের দিকে শিক্ষকরা জনগণনার কাজ করতে পারবেন। আর সেই ঘোষণার পরেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মধ্যে বাড়তে থাকে ক্ষোভ।

স্কুল শিক্ষকদের জনগণনার কাজকে অন ডিউটি হিসেবে গণ্য করার দাবি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন 31 জন প্রাথমিক শিক্ষক, শিক্ষিকা। শুক্রবার, সেই মামলার শুনানি চলাকালীন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণা রাও জনগণনার কাজে শিক্ষকদের নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েই প্রশ্ন তোলেন। বিচারপতি বলেন, “শিক্ষকরা স্কুল কখন করবেন আর কখনই বা জনগণনার কাজ করবেন?”

এদিন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির বেঞ্চ জনগণনার কাজে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানায়, এই বিশেষ কাজে নিয়োগ করার আগে শিক্ষক শিক্ষিকারা কোন স্কুলে শিক্ষকতা করেন, সেই স্কুলের দূরত্ব তাঁদের বাড়ি থেকে কতটা সেইসব খতিয়ে দেখা উচিত ছিল। একই সাথে এদিন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও এও বলেন, সমস্ত শিক্ষকের বাড়ি যে স্কুলের কাছেই হবে এমনটা নয়। আবার স্কুলের কাছেই যে জনগণনার কাজ করবে তেমনটাও নয়। অনেকের বাড়ি স্কুল থেকে বহু দূর। তাঁদের ফিরতে সময় লাগে।

এদিন বিচারপতি একসাথে সমস্ত শিক্ষককে পাঠানোর থেকে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেন। অর্থাৎ ভাগে ভাগে 4 থেকে 5 জন শিক্ষককে জনগণনার কাজে পাঠানোর কথা বলেন তিনি। বিচারপতির মতে, এতে জনগণনার মতো সরকারি কাজ যেমন সম্পন্ন হবে তেমনই বিঘ্নিত হবে না পঠন পাঠন। জানা যাচ্ছে, এই মামলায় এবার শিক্ষকদের যাবতীয় তথ্য খতিয়ে দেখে আদালতকে আগামী মঙ্গলবার তা জানাবে রাজ্য।

Leave a Comment