অনন্যা সরকার, কলকাতা: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৫ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসে এবং ২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে সগর্বে তিরঙ্গা পতাকা (Tiranga Flag) উত্তোলন করা হয়। তবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পদ্ধতি, স্থান এবং এর সঙ্গে জড়িত ঐতিহ্যের মধ্যে ভিন্নতা থাকে, যা অনেকের কাছেই অজানা। এই দুই বিশেষ দিনে পতাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে কী কী পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়, আসুন জেনে নেওয়া যাক।
স্বাধীনতা দিবস ও প্রজাতন্ত্র দিবসে পতাকা উত্তোলনের তাৎপর্য
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারত ২০০ বছরের ব্রিটিশ শাসন থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্তি পায়। প্রতি বছর এই ঐতিহাসিক দিনের স্মরণে সারা দেশজুড়ে স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। এই উপলক্ষে দিল্লির লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। এদেশের স্বাধীনতার জন্য আত্মবলিদান দেওয়া বীর শহীদদের স্মরণ করার মধ্যে দিয়ে তাদের শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: রেশন কার্ডে নাম ভুল? চেঞ্জ করতে হবে ঠিকানাও? ফোন দিয়ে এভাবে করে নিন ৫ মিনিটে
আবার, ১৯৫০ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের সংবিধান আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয় এবং ভারতকে একটি প্রজাতন্ত্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তাই ঐতিহাসিকভাবে এই দিনটির গুরত্বও ভারতবাসীদের কাছে অপরিসীম। প্রতিবছর এই দিনে রাজধানীতে দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করার জন্য রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন এবং অনুষ্ঠিত হয় এক বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। বহু বিদেশি অতিথিদের আমন্ত্রণ করা হয় এই অনুষ্ঠানে। এই দিনটি দেশের সার্বিক শক্তি ও বৈচিত্রের দিকটি তুলে ধরে, যা ভারতীয়দের কাছে গর্বের হতে ওঠে।
পতাকা তোলার পদ্ধতির পার্থক্য
স্বাধীনতা দিবসে প্রথমে দড়ির সাহায্যে তিরঙ্গা পতাকাটিকে নীচ থেকে উপরে তোলা হয় ও তারপর সম্পূর্ণভাবে মেলে ধরা হয়। ফ্ল্যাগ হয়েস্টিং (Flag Hoisting) নামে পরিচিত এই প্রক্রিয়াটি দেশের স্বাধীনতার ঐতিহাসিক মুহূর্তের সঙ্গে জড়িত একটি ঐতিহ্য। আর প্রজাতন্ত্র দিবসে জাতীয় পতাকা আগে থেকেই পতাকাদণ্ডের ওপরে বাঁধা থাকে। নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার পর ভারতের রাষ্ট্রপতি দড়ির সাহায্যে সেটি মেলে ধরেন। তাই ২৬শে জানুয়ারির এই অনুষ্ঠানটিকে পতাকা উত্তোলন না বলে ‘পতাকা উন্মোচন’ বা ‘ফ্ল্যাগ আনফারলিং’ (Flag Unfurling) বলা হয়।
দেশের নির্বাচিত সরকারের প্রধান হিসেবে আগস্টের ১৫ তারিখ প্রধানমন্ত্রী তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করেন। আর জানুয়ারির ২৬ তারিখে দেশের সাংবিধানিক প্রধান, রাষ্ট্রপতি জাতীয় পতাকা উন্মোচন করেন। এই বিষয়টি দুই দিনের উদযাপনের মধ্যে বড় পার্থক্য। সাধারণ জনগণ রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে তিরঙ্গা পতাকা উত্তোলন করতে তো দেখেন, কিন্তু এর মধ্যে কী পার্থক্য রয়েছে, সেদিকে ততটা খেয়াল করেন না। তবে পতাকা উত্তোলনের প্রক্রিয়ায় এই ভিন্নতা ওই দুই দিনের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে আলাদা করে তোলে।