অনন্যা সরকার, কলকাতা: দুর্গাপুজোর ঝলমলে আলো, দর্শনার্থীদের ভিড়, আর ঢাকের তালে মুখরিত পুজো মণ্ডপে দেখা গেল এক অসাধারণ দৃশ্য (Inspirational Story)। হুইলচেয়ারে বসা প্রতিবন্ধী স্বামী নিখিল দাসকে তাঁর স্ত্রী ভিড় ঠেলে প্রতিমা দর্শন করতে নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কখনও কোলে তুলে নিচ্ছেন, যাতে নিখিল মা দুর্গার প্রতিমাটি দেখতে পান। এই হৃদয়স্পর্শী মুহূর্তের ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে নিখিল লিখেছেন, “হাজারো ভিড়ের মধ্যে তুমি আমাকে এভাবে মা দুর্গাকে দর্শন করাচ্ছ তোমায় পেয়ে ধন্য আমি।” সোশ্যাল মিডিয়ায় নিখিল ও তার স্ত্রীর এই জীবন সংগ্রামের কাহিনীটি বহু মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। অভাব-অনটন ও শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এই পুজোর সময়টা নিখিল ও তাঁর স্ত্রী যেভাবে নিজেদের মতো করে আনন্দ খুঁজে নিয়েছেন, তা বহু মানুষের চোখের কোণে জল এনে দিয়েছে।
নিখিলের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী
বীরভূম জেলার মুররই থানার অন্তর্গত ধিত্য রামিয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা নিখিল দাসের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কেড়ে নিয়েছে তাঁর হাঁটা-চলার শক্তি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা প্রায়শই নিখিল দাসের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু তাঁর স্ত্রীর অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সামনে প্রতিটি বাধাই হার মানতে বাধ্য হয়েছে। দৈনন্দিন জীবনের কঠিন সংগ্রাম থেকে শুরু করে উৎসবের আনন্দঘন মুহূর্ত – সবক্ষেত্রেই তাঁর স্ত্রীই তাঁর শক্তির প্রধান উৎস হয়ে থেকেছেন।
যে সমাজে প্রায়শই প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রতি অবহেলা করা হয়, সেখানে থেকেই তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, প্রকৃত ভালোবাসার কাছে শারীরিক সীমাবদ্ধতা কোনো বাধা হতে পারে না। স্বামীর জীবনের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে তিনি যেন তাঁর জীবনযাত্রার প্রকৃত ‘সারথি’ হয়ে উঠেছেন।
আরও পড়ুন: ভারতীয় বিস্কুট আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, বড় সিদ্ধান্ত নেপাল সরকারের
শুধু পুজোর দিনগুলোতেই নয়, সারা বছর ধরে যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তাঁর স্ত্রী তাঁকে কোলে বা কাঁধে করে নানা জায়গায় নিয়ে যেতে দ্বিধাবোধ করেননি। এই দম্পতির গল্প প্রমাণ করে যে, গভীর ভালোবাসার, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ত্যাগের মাধ্যমে জীবনের কঠিনতম চ্যালেঞ্জগুলোকেও সহজেই জয় করা সম্ভব। এই উৎসবের দিনে মা দুর্গার প্রতিমার পাশাপাশি নিখিল ও তাঁর স্ত্রীর ভালোবাসা প্রকৃত শক্তির এক অনন্য নিদর্শন হয়ে উঠেছে।