হাজির এল নিনো, বর্ষার বৃষ্টিতে লাগবে ব্রেক! তৈরি হবে খরার মতো পরিস্থিতি

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: খুব শীঘ্রই খরা পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে চলেছে গোটা দেশবাসী। এল নিনো (El Niño–Southern Oscillation) নিয়ে ভয়াবহ উদ্বেগের আশঙ্কা প্রকাশ করলেন আবহাওয়াবিদরা। প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনো পরিস্থিতি দিনের পর দিন উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। আর এটি গোটা দেশের বৃষ্টিপাতের উপরেই প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি বর্ষার পরেও এল নিনোর প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যদিও আবহাওয়াবিদের মহাপরিচালক ডঃ মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানাচ্ছেন যে, এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই (Weather Update)।

এল নিনো নিয়ে খারাপ খবর

জানিয়ে রাখি, এল নিনো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। এই সময় এই মহাসাগরের উপরিভাগের জল অস্বাভাবিক হারে উষ্ণ হয়ে ওঠে। আর এটি মৌসুমী বায়ুকে সরাসরি প্রভাবিত করে এবং বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ার কারণে গোটা দেশে খরা পরিস্থিতি তৈরি হয়। রিপোর্ট বলছে, প্রশান্ত মহাসাগর বর্তমানে নিরপেক্ষ পর্যায়ে থেকে পুরোপুরি এল নিনো পর্যায়ে প্রবেশ করছে। এমনকি আবহাওয়াবিদরা এই পরিস্থিতিকে সুপার এল নিনো হিসেবেই আখ্যা দিচ্ছে, এবং এর প্রভাবে বছরের শেষে গোটা দেশে খরা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

এ বিষয়ে আইএমডি-র মহাপরিচালক ডঃ মৃত্যুঞ্জয় মহাপাত্র সতর্কতা জারি করেছেন। তিনি বলেছেন, জুলাই, আগস্ট এবং সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতে এল নিনোর প্রভাব থাকবে। তবে সেপ্টেম্বর মাসের শেষে তা আরও শক্তিশালী হবে। তাঁর আরও সংযোজন, এই সময় উত্তর-পশ্চিম, মধ্য এবং পশ্চিম অঞ্চলে স্বাভাবিকের থেকে বৃষ্টিপাত কম হবে। আবার উল্টো দিকে গুজরাট এবং রাজস্থান থেকে শুরু করে ওড়িশা, উত্তরপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড় পর্যন্ত কম বৃষ্টিপাতের কারণে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কিন্তু তিনি জনগণকে এখনই আতঙ্কিত হতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, সতর্কতা জারি হলে আমাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: হাওড়ায় প্রধান কার্যালয়, বাংলাতেই NCPI দলের শিকড়, জেনে নিন ঠিকানা

অন্যদিকে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। এ বছর দেশের প্রধান জলধারগুলিতে জলের ধারা স্বাভাবিকের থেকে অনেকটাই ভালো। এটি খারিফ ফসলের জন্য সাহায্য করবে। এর আগে সরকার এল নিনোর প্রভাব থেকে কৃষকদের রক্ষা করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিল। এমনকি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এল নিনোর কারণে গ্রামীণ এলাকায় খরা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা দেশের অর্থনীতির উপরে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। আর ভারতের খরা বা অপর্যাপ্ত বর্ষার সঙ্গে এর সরাসরি সংযোগ রয়েছে। এখন দেখার পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।

Leave a Comment