বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল হতেই জনতার হাতেই শিক্ষা পাচ্ছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা (Trinamool Congress)। কিছুদিন আগেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে পচা ডিম, পাথর ছুঁড়তে দেখা গিয়েছিল সোনারপুরের বাসিন্দাদের। এবার তৃণমূলের এক নেতাকে 100 দিনের কাজে দুর্নীতির অভিযোগে মাথা মুড়িয়ে, গলায় জুতোর মালা পরিয়ে সারা পাড়া ঘোরালেন এলাকাবাসী। ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়ার শ্যামপুরে। ইতিমধ্যেই তৃণমূল নেতার বেহাল দশার দৃশ্য ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এলাকাবাসীর হাতেই শিক্ষা পেলেন তৃণমূল নেতা!
হাওড়ার শ্যামপুরের অমরদহ এলাকার ঘটনা। ওই অঞ্চলের বাসিন্দা সন্ন্যাসী মান্না তৃণমূলের একসময়ের দাপুটে নেতা ছিলেন। এলাকায় তাঁর কথায় কার্যত বাঘে গরুতে এক ঘাটে জল খেতো বলা যায়! এই নেতার অবস্থা যে এত খারাপ হতে পারে তা বোধহয় কল্পনাও করতে পারেননি ওই অঞ্চলের বাসিন্দারাই! এলাকাবাসীর অভিযোগ, 100 দিনের কাজের প্রকল্পে প্রচুর অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি। সে কারণেই দিন দিন ওই নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ পুঞ্জিভূত হচ্ছিল এলাকার বাসিন্দাদের।।
শেষ পর্যন্ত, আজ অর্থাৎ রবিবার গ্রামবাসীরা এক জোট হয়ে ওই তৃণমূল নেতাকে ঘিরে ধরেন। এমনকি কিছু কটুক্তিকর কথা বলতে বলতেই ওই তৃণমূল নেতার গায়েও হাত তোলেন স্থানীয়রা। এরপরই ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের মাথার একাংশ কামিয়ে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরান। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পরনে খাটো করে পরা একটি লুঙ্গি। খালি গা। কাপড়ের একাংশ দিয়ে দড়ি বানিয়ে বাঁধা হয়েছে তৃণমূল নেতার কোমরে। সেটা সামনে এবং পেছন থেকে ধরে রয়েছেন কয়েকজন। এভাবেই ওই তৃণমূল নেতাকে টানতে টানতে গোটা পাড়ায় ঘোরান স্থানীয়রা।
অবশ্যই পড়ুন: কষ্ট কমবে এলাকাবাসীর, লালগড়-গোপীবল্লভপুর-নয়াগ্রাম পাচ্ছে নতুন রেলপথ
এমন দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই একপ্রকার হাসির রোল পড়ে গিয়েছে। নেট নাগরিকদের একটা বড় অংশ লিখছেন, “কৃতকর্মের একেবারে যোগ্য জবাব পেয়েছেন ওই তৃণমূল নেতা।” যদিও এই ঘটনার খবর পেতেই তড়িঘড়ি শ্যামপুরের ওই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় বিরাট পুলিশ বাহিনী। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ খানিকটা বেগ পেতে হয়েছিল তাঁদের। তবে স্থানীয়দের বুঝিয়ে সুজিয়ে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে শ্যামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।