সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শেষে কিনা আমের সংকটে ভুগছে পাকিস্তান! তবে আমদানি না, বরং রফতানিতে (Pakistan Mango Export)। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে এবার দেশটির উৎপাদিত আম রফতানিতে লেগেছে বিরাট ধাক্কা। সূত্রের খবর, এই মরসুমে পাকিস্তানের আম রফতানি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। ফলে তা যে দেশের অর্থনীতির জন্য আরও বড় ধাক্কা হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বর্তমানে দেশটিতে আমের মরসুম চলছে। কিন্তু লাভজনক রফতানি বাজারে পাঠানো আমের পরিমাণ আগের বছরগুলোর তুলনায় অনেকটাই কম। সেই কারণেই চিন্তার ভাঁজ পড়ছে আম রফতানিকারকদের কপালে।
পাকিস্তানে আমের সংকট
উল্লেখ্য, আম রফতানিতে পাকিস্তান শীর্ষ দেশগুলির মধ্যে অবস্থান করে। কিন্তু পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের কারণে সেই রফতানিতে এবার পড়েছে ভাটা। এক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, এবছর রফতানি বিক্রি অন্তত ৩০ শতাংশ কমতে পারে। কারণ, উপসাগরীয় বাজারে দিনের পর দিন চাহিদা হ্রাস পাচ্ছে এবং পরিবহন খরচ বাড়ছে। এমনকি দেশের বাজারেও আম বিক্রি অনেকটাই কমেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাগানের মালিক বলেন, এবার বাগান লিজ নেওয়ার খরচ মেটানো কঠিন হয়ে পড়ছেম যার ফলে অনেকেই আমের বাগান থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে সরিয়ে নিচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘাতে বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার কারণে পণ্য বোঝাই হাজার হাজার ট্র্যাক মাসের পর মাস সীমানা চেকপোস্টগুলিতে আটকা পড়ে রয়েছে। আর সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের উত্তেজনার জেরে আমের মরসুমে সংকট আরও বেড়েছে। দেশটির এক সংবাদমাধ্যম দাবি করছে, সেখানে বহু প্রজাতির আম উৎপাদিত হয় যেগুলি বেশিরভাগ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে রফতানি করা হয়। এমনকি পাকিস্তান বছরে ১১০ মিলিয়ন ডলার আয় করে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম আম রফতানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এবার সেই রফতানি সম্পূর্ণ ঝুঁকির মুখে।
আরও পড়ুন: ‘আগেই অন্ধ বিরোধিতা নয়!’ বাজেটের আগে কড়া বার্তা মমতার
জানা গিয়েছে, পাকিস্তানের রাম রফতানির ৮০ শতাংশ উপসাগরীয় দেশ, ইরান এবং আফগানিস্তানের মতো দেশগুলিতে যায়। কিন্তু সংঘাতের কারণে সেই রফতানি সম্পূর্ণ বন্ধ। সেই কারণে গত মরসুমের তুলনায় এ বছর আম রফতানি ৩০ হাজার টন কমে ৮০ হাজার টনে নেমে আসতে পারে। এমনকি স্থানীয় বাজারগুলোতে চাহিদার তুলনায় বেশি আম সরবরাহ হচ্ছে। যে কারণে পাকিস্তানিরাও আম কিনতে দ্বিধাবোধ করছেন, এবং এতে যে মৃতপ্রায় দেশটির অর্থনীতি আরও ঝুঁকির মুখে পড়বে তা আঁচ করতে পারছেন বিশেষজ্ঞরা।