অনন্যা সরকার, কলকাতা: বুধবার (৪ নভেম্বর) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) এবং সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) সংক্রান্ত বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বাবদ অতিরিক্ত ৪,০০০ কোটি টাকা আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রদান করা হবে। তিনি এ-ও উল্লেখ করেছেন যে, এই বকেয়া টাকা মিটিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে।
চলতি মাসের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ হাতে পাওয়ার পর চলতি অর্থবর্ষের মধ্যেই তা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকার আগেই বকেয়া ডিএ মেটানো ও বেতন কমিশন সংক্রান্ত কাজ ত্বরান্বিত করার ইঙ্গিত দিয়েছিল। এখন শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন ঘোষণার পর লক্ষ লক্ষ কর্মচারীরা তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ার আশায় অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
তবে নবান্নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজ্য সরকারের কর্মচারী এবং কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতার পার্থক্যের ব্যবধান একবারে দূর করা সম্ভব নয়। রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ধীরে ধীরে ডিএ বাড়ানো হবে। এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে যে, সম্প্রতি মহার্ঘ ভাতা ২০ শতাংশ বাড়ানোর ফলে এই ব্যবধান ইতিমধ্যেই অনেকটাই কমে এসেছে। রাজ্যের মন্ত্রিসভা সপ্তম রাজ্য বেতন কমিশন গঠনের অনুমোদন দিয়েছে। এর অধীনে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পঞ্চায়েত, পৌরসভা ও বিভিন্ন পর্ষদের কর্মীরা এবং সরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা থাকবেন।
আরও পড়ুন: মিলবে ৫ বছরের অগ্রিম বেতন, কর্মচারীদের জন্য স্যালারি অ্যাডভান্সড স্কিম চালু করল নবান্ন
সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ ও সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে আগামীদিনে মূল বেতন, ডিএ, পেনশন এবং অন্যান্য পরিষেবা-সংক্রান্ত ভাতা পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে। এর ফলে বিদ্যমান বেতন কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। কমিশন তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করার পর নতুন বেতন কাঠামো এবং বকেয়া পাওনা পরিশোধের বিষয়ে চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করবে বলে শোনা যাচ্ছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা পুরনো বেতন কাঠামো অনুসারে বেতন পান, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ইতিমধ্যেই সপ্তম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুবিধা পাচ্ছেন। আর বেতন কাঠামোর এই পার্থক্যের কারণেই মূলত বেতন ও ভাতার ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। রাজ্য সরকারি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গে সপ্তম বেতন কমিশন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন। বর্তমানে কমিশন গঠনের পর তাঁরা সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণাটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।