অনন্যা সরকার, কলকাতা: বুধবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আয়োজিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকের (Cabinet Meeting) সূচনা হল চোরবাগান দুর্গামণ্ডপে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ব্যক্তিরা নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সদস্যদের দুর্ঘটনার পর প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছেন। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে যে, এই বৈঠকে নতুন শিল্পনীতি, কৃষকদের আর্থিক সহায়তা, প্রশাসনিক বরাদ্দ, কালীপূজার প্রস্তুত সহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা
মন্ত্রিসভার বৈঠক থেকে আজ জানা গেছে যে, পশ্চিমবঙ্গের নতুন শিল্পনীতি আগামী ৫ নভেম্বর ঘোষণা হতে পারে। নীতিমালার খসড়া তৈরির দায়িত্বে থাকা বিশেষ মন্ত্রীদলের জমা দেওয়া প্রস্তাবগুলো আজকের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিশদে আলোচনা করা হয়েছে। রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নতুন শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। নবান্ন সূত্রে জানা গেছে যে, মুখ্যমন্ত্রী ওইদিন নতুন নীতিটি ঘোষণা করতে পারেন।
এর পাশাপাশি, আগামী ৫ নভেম্বর রাজ্যের প্রায় ৪৮ লক্ষ কৃষক ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’ প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের অংশ হিসেবে এই অর্থ হুগলির পুরশুড়ায় প্রদান করা হবে। এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও কৃষিমন্ত্রী দুধ কুমার মন্ডল উপস্থিত থাকবেন এবং অন্যান্য মন্ত্রী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন জেলা থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। এছাড়া, রাজ্যের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে এটি ‘মুখ্যমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি’ নামে পরিচিত হবে বলে জানানো হয়েছে। জানা গেছে, বুধবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে কমবে বিল ও ওষুধের দাম? ‘লুট মেনে নেওয়া যাবে না’ বলল সুপ্রিম কোর্ট
এছাড়া অর্থ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্য সরকারের যেসব বিভাগ তাদের বর্তমান বাজেট বরাদ্দের ৩৫ শতাংশ ইতিমধ্যে ব্যয় করে ফেলেছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি যেন পর্যালোচনা করা হয়। অন্যদিকে, এগিয়ে আসছে দীপাবলি। তাই কালীপুজো যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রীদের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: “মোদী আজ এই জায়গায় পৌঁছতে পারতেন?” এবার মনমোহন সরকারের প্রসঙ্গ টানলেন অভিজিৎ
প্রতিটি জেলার দায়িত্বে একজন করে মন্ত্রী থাকবেন, তবে বড় জেলাগুলোর ক্ষেত্রে দুজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যেন পূজার প্রস্তুতির পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ নজর রাখা হয়। এছাড়া, বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে আগামী ১১ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত পুরো রাজ্যজুড়ে ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ (Tribal Pride Day) পালন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।