প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বৃহস্পতিবার আইপ্যাকের দপ্তরে এবং প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির হানা নিয়ে এইমুহুর্তে রাজ্য রাজনীতিতে এক উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর সেই ঘটনার প্রতিবাদে আজ, শুক্রবার দিল্লিতে স্বরাষ্ট্র দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল সাংসদরা। ডেরেক ও’ ব্রায়েন, মহুয়া মিত্র, কীর্তি আজাদ, শতাব্দী রায়-রা প্রতিবাদী স্বর তোলে। অভিযোগ দিল্লি পুলিশ হেনস্তা করে সাংসদদের, এবার সেই ঘটনা নিয়ে গর্জে উঠলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।
তৃণমূল সাংসদদের ওপর দিল্লি পুলিশের অত্যাচার
আইপ্যাকের অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার প্রতিবাদে আজ অর্থাৎ শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর দপ্তরের সামনে ধরনায় বসেছিলেন তৃণমূল সাংসদরা। কিন্তু সেই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদেও বাঁধা দেয় দিল্লি পুলিশ। তৃণমূল সাংসদদের সঙ্গে বচসার পর কার্যত চ্যাংদোলা করে তাঁদের তুলে নিয়ে যায় পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়। ডেরেক ও ব্রায়েন, শতাব্দী রায়, সাকেত গোখলে, মহুয়া মৈত্র, মমতা ঠাকুরের মতো হেভিওয়েট সাংসদদের একপ্রকার জোর করে, টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মহিলাদের ওপরেও অত্যাচার করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। এবার সেই নিয়ে গর্জে উঠলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কী বলছেন অভিষেক?
জানা গিয়েছে, দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের ওপর অত্যাচারের প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, “গণতন্ত্র আজ তিরস্কৃত। অপরাধীদের এখন পুরস্কার দেওয়া হয়। এজেন্সিগুলিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের পাঠানো হচ্ছে জেলে। ধর্ষকদেরও জামিন দেওয়া হচ্ছে। এটা বিজেপির নতুন ভারতের সংস্করণ। দেশের বাকি অংশ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলেও, বাংলা প্রতিরোধ করবেই। আমরা লড়াই জারি রাখব এবং পরাজিত করব, যতই বল প্রয়োগ করো না কেন।”
Democracy is punished.
Criminals are rewarded.
Agencies are weaponised.
Elections are manipulated.JAIL the PROTESTERS.
BAIL the RAPISTS.This is BJP’s version of New India.
Even if the rest of the country is forced to surrender,
Bengal will resist.We will fight you tooth… https://t.co/YH8oAxuUnn
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) January 9, 2026
আরও পড়ুন: ছিনতাইয়ের অভিযোগ! ED-র মামলায় যুক্ত মুখ্যমন্ত্রীও, পাল্টা ‘চুরি’ তত্ত্ব তুললেন মমতা
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার কলকাতায় যখন আই-প্যাকের দপ্তর ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ED অভিযান নিয়ে যখন হুলুস্থুল কাণ্ড শুরু হয়েছিল তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ এবং তৎপরবর্তী পরিস্থিতি প্রসঙ্গে নীরবই ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু আজ, শুক্রবার যখন দিল্লিতে ED হানার প্রতিবাদে তৃণমূল সাংসদরা প্রতিবাদ করায় তাঁদের উপর দিল্লি পুলিশ চড়াও হচ্ছিল, তখন আর চুপ থাকতে পারলেন না তিনি। সাংসদদের উপর হামলা ও এজেন্সির অপব্যবহার নিয়ে রীতিমত ফুঁসে উঠলেন অভিষেক।