এবার পাকিস্তানে এয়ারস্ট্রাইক আফগানিস্তানের, কাঁপল ইসলামাবাদ!

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে (Afghanistan-Pakistan War)। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল এগারোটা নাগাদ পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সহ একাধিক সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। যদিও পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে এই প্রতিবেদন লেখা অবধি এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি।

কোথায় করা হল হামলা?

আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, ইসলামবাদের ফয়জাবাদ এলাকার কাছে একটি সামরিক ক্যাম্পে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি খাইবার পাখতুনখোয়ার নওশেরা ক্যান্টনমেন্ট, জামরুদ সামরিক কলোনি এবং অ্যাবোটাবাদেও আঘাত হানা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কাবুলের দাবি, এই অভিযানে সামরিক ঘাঁটি, কম্যান্ড সেন্টার এবং কৌশলগত কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলিকে নিশানা করা হয়। আর ড্রোন ব্যবহার করেও হামলা চালানো হয়েছে বলে রিপোর্ট অনুযায়ী খবর।

তবে আফগানিস্তানের বক্তব্য, আগের রাতে কাবুল, কান্দাহার এবং পাকতিকা প্রদেশে পাকিস্তান বাহিনীর বিমান অনুপ্রবেশ আর হামলার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনায় আগুনে লেগেছে এবং অপারেশন সফল হয়েছে। সবথেকে বড় ব্যাপার, ওই অভিযানে ৫৫ জন পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে বলে আফগান সূত্র দাবি করছে। পাশাপাশি কয়েকটি চেক পোস্ট এবং দুটি সদর দফতর দখলের কথাও বলা হয়েছে। কিন্তু এই সমস্ত দাবির সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

আরও পড়ুন: বাংলার ব্লকে ব্লকে হবে মডেল স্কুল, খরচ প্রায় ২৩৫০ কোটি! বড় ঘোষণা ব্রাত্য বসুর

বলে রাখি, ডাংগাম জেলা থেকে এক আফগান কমান্ডার সদর দফতরে পাঠানো বার্তায় জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। আর কিছু পাকিস্তানি পোস্ট থেকে সেনারা পিছু হটেছে। এমনকি একটি পোস্টে দু’জন পাকিস্তানে সেনার মৃতদেহ পড়ে থাকার উল্লেখ পাওয়া গিয়েছে। আর এই সংক্রান্ত ভিডিও সম্প্রচার করেছে আফগান রাষ্ট্রায়াত্ত চ্যানেল আরটিএ আফগানিস্তান। অন্যদিকে TOLOnews এর এক প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, অভিযানে পাকিস্তানের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে তাদের ৮ জন সেনা নিহত এবং ১১ জন আহত হয়েছে। আর একইসঙ্গে তোরখাম এলাকায় একটি অস্থায়ী শিবিরে পাকিস্তানের বিমান হামলায় নারী এবং শিশুসহ ১৩ জন আহত হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

Leave a Comment