সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গুজরাটের আহমেদাবাদে (Ahmedabad) অবৈধ ক্রিকেট সাট্টা এবং শেয়ারবাজারে কারসাজিতে এবার ৫৫০ কোটি টাকার বিশাল জালচক্রের পর্দা ফাঁস হল। তদন্ত নেমে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে ইডি। ইতিমধ্যেই আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। সবথেকে চমক দেওয়া বিষয়, মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা আয় করা একটি রিকশাচালকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নাকি ৩০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে!
রিকশাচালকের অ্যাকাউন্ট কিনে প্রতারণা
তদন্তে জানা যায়, দীপ ওড নামের ওই রিকশাচালক নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়েছিলেন। আর অভিযুক্ত করণ পরমার ওরফে লালা নামের এক ব্যক্তি ওই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেই জাল চক্র চালাত। প্রতিটি চেকে সই করার জন্য দীপকে আবার ৪০০ টাকা করে দেওয়া হত। এমনকি তাঁর প্যান এবং আধার কার্ড ব্যবহার করেই দীপ এন্টারপ্রাইজেস নামের একটি বহু সংস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল।
তদন্তে আরও জানা যায়, কমলেশ ট্রেডিং এবং রোনক ট্রেডার্স নামের আরও দুই সংস্থা তৈরি করা হয়েছিল, যেগুলির কোনও বাস্তবে ব্যবসা ছিল না। এমনকি ২০২৪ সালে খোলা তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৫৫০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। অথচ ওই সংস্থাগুলির কোনও রকম প্রকৃত ব্যবসায়ীক কার্যকলাপ ছিল না বলেই খবর। আর ইডি এও দাবি করছে, এই অ্যাকাউন্টগুলির মাধ্যমে অনলাইন ক্রিকেট সাট্টার টাকা ঘুরিয়ে লেনদেন করা হত।
ওদিকে তদন্তে শেয়ার বাজারে সার্কুলার ট্রেডিং এর প্রমাণ মিলেছে। কৃত্রিমভাবে টার্নওভার বাড়িয়ে নির্দিষ্ট শেয়ারের দামগুলিকে অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো হত। এমনকি একটি সংস্থার শেয়ারের দাম মাত্র ১২ মাসেই ১০,০০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছিল। আর বিষয়টি সামনে আসার পরেই সেবি ওই শেয়ারের লেনদেন বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি ইডি-র তদন্তে উঠে এসেছে, বিভিন্ন সংস্থায় ৮০.৫০ কোটি, ৫২.১১ কোটি এবং ২২.৮৬ কোটি টাকা স্থানান্তর করা হয়েছিল। এছাড়াও ই-গুরু নামের একটি প্ল্যাটফর্মে অনুদান এবং পেনি স্টকে বিনিয়োগের আড়ালে টাকার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
আরও পড়ুন: ২ লাখ দিয়েও মেলেনি পদ, পার্টি অফিসে TMC নেতাকে পেটালেন দলীয় কর্মী! ভাইরাল ভিডিও
ইতিমধ্যেই এই ঘটনার কারণ কারণে পরমার ওরফে লালা মলালা সহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আর আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে ইডি আনুষ্ঠানিকভাবে নালিশে জানিয়েছে। তবে তদন্তকারীরা মনে করছে, গরীব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ভাড়া নিয়েই ভুয়ো সংস্থা করে কোটি কোটি টাকা লেনদেন চালানো হচ্ছিল। আর এই চক্রের পিছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছ কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত চালানো হচ্ছে।