প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে রীতিমত উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। ভোট প্রচারকে কেন্দ্র করে যেন এক থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় মালদহে (Malda) ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। রাস্তার পাশে ফুলঝুরি জ্বালানোর সময় ফুলকি এক নাবালিকার গায়ে পড়ায় দুই পরিবারের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। আর তখনই তরোয়াল দিয়ে কুপিয়ে এক ব্যক্তিকে খুনের অভিযোগ উঠে এল। জানা যায় সেই সংঘর্ষে নাকি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের যোগ ছিল।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট মোতাবেক, গত মঙ্গলবার মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের সুলতাননগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সাইরা গ্রামে শাহজাহান মিঞা নামের এক বাসিন্দার সাত বছরের ছেলে রাস্তার ধারে ফুলঝুরি জ্বালাচ্ছিল। সেই সময় রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল তফাজুল মিঞার বাড়ির এক নাবালিকা, আর তখনই বাজির ফুলকা গায়ে পড়ে, আর সেই থেকেই শুরু হয় ব্যাপক সংঘর্ষ। ঘটনাকে ঘিরে দুই পরিবারের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরে সেটি ভয়ংকর সংঘর্ষে পরিণত হয়। যার নেপথ্যে যোগ দেখা যায় তৃণমূল নেতার।
হাসপাতালে যেতে যেতেই মৃত্যু অভিযুক্তের
স্থানীয়দের তরফে জানানো হয়েছে, দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালীন নাকি স্থানীয় তৃণমূল নেতা আহমেদ মিঞা এবং আরও এক তৃণমূল কর্মীর উস্কানিতে শাহজাহান মিঞাকে মাটিতে ফেলে ধারাল তরোয়াল দিয়ে কোপাতে থাকে অভিযুক্ত রাজীব মিঞা ও তফাজুল মিঞা-সহ তাঁদের পরিবারের লোকেরা। শোচনীয় অবস্থা দেখা যায় শাহজাহান মিঞার, শেষে পরিবারের লোকেরা সময় নষ্ট না করে তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু সেখানকার চিকিৎসক তাঁর আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। কিন্তু যেতেই যেতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
আরও পড়ুন: নিচে মেট্রো, মাঝখানে ট্রেন, উপরে ছুটবে বুলেট ট্রেন! ভারতে তৈরি হচ্ছে ১৬ তলার স্টেশন
ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াতেই পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এবং তখনই মৃতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আহমেদ মিঞার বিরুদ্ধেও মৃতের পরিবারের তরফে অভিযোগ জানানো হয়েছে। মৃতের স্ত্রী আনবরি বিবি জানিয়েছেন, “ ঝামেলা মিটে গেলেও আমাদের ভাগ্নি যখন রাস্তা দিয়ে আসছিল তখন তাকে ধরে মারতে থাকে ওরা। বাঁচাতে গেলে আমার দেওরকে মারে সকলে, তারপর আমার স্বামী গেলে তাঁকেও তরোয়াল দিয়ে কোপ মারে। তৃণমূল নেতা উস্কানি দিয়েছিলেন বলে এই পরিণতি।” যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যর স্বামী আহমেদ মিঞা। সম্পূর্ণ বিষয়টি তদন্ত করে দেখে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।