সৌভিক মুখার্জী, নদীয়া: মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে হঠাৎ করেই তেল সংকটের আতঙ্কে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হল বাংলার নদিয়া জেলায় (Oil Crisis in Nadia)। বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন সারি, সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে তেল নেওয়ার আশায়। এমনকি অনেকে ব্যারেল নিয়ে ভিড় জমাচ্ছে পাম্পগুলোতে। ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কেউ কেউ একাধিক পাম্প ঘুরেও তেল পাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি চরমে পৌঁছচ্ছে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলা সংঘাতকে (Middle East Conflict) কেন্দ্র করেই তেলের যোগান কমে যেতে পারে, সেই আশঙ্কায় এখন স্থানীয় মানুষরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
উপচে পড়া ভিড় পাম্পে
নদিয়ার বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে সকাল থেকেই দেখা যাচ্ছে গাড়ির লম্বা লাইন। এমনকি অনেকেই ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে পড়ছে যাতে তেল পাওয়া যায়। কিছু ক্রেতারা অভিযোগ করছে, তিন থেকে চার ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক পাম্পের ডিজেল শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে সাময়িকভাবে পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। এ বিষয়ে পাম্পের এক কর্মী নিজেই জানিয়েছেন, গত দুইদিন ধরে অস্বাভাবিক হারে ডিজেল বিক্রি হয়েছে। যার ফলে অনেক পাম্পের ডিজেল দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর পেট্রোল এখনো পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু সেটাও খুব দ্রুত হয়ে বিক্রি হয়ে যাবে।
আসলে এই পরিস্থিতিতে সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। কারণ, তাদের চাষবাসের কাজে সেচের প্রয়োজন হয়। সেই কারণে অনেকেই দীর্ঘ সময় ধরে বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়াচ্ছে। এ বিষয়ে এক কৃষক জানিয়েছেন, শোনা যাচ্ছে যুদ্ধের কারণে ডিজেল পাওয়া যাবে না। তাই আগে থেকে ডিজেল কিনে রাখার চেষ্টা করছি। ধান চাষের সময় ডিজেল না পেলে আমাদের বিরাট সমস্যায় পড়তে হবে।
আরও পড়ুন: ‘সংঘাতে সমস্যা মেটে না..’ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ নিয়ে প্রথম বিবৃতি মোদির
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
এদিকে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন রকম গুজব ছড়িয়ে পড়ছে। সেই কারণে দেশে তেল সরবরাহের উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে মত প্রকাশ করছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু কেন্দ্রের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশে প্রায় ২৫ দিনের তেল মজুদ রয়েছে। আর তেলের সরবরাহ নিয়েও কোনও রকম সমস্যা নেই। এমনকি রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ জগন্নাথ সরকার স্পষ্ট বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত চললেও ভারতের তেল সরবরাহের একাধিক পথ খোলা রয়েছে। অতিরিক্ত তেল মজুদ করার কোনও রকম প্রয়োজন নেই। গুজবে কান দিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করবেন না।