দুই মুসলিম দেশ –আফগানিস্থান আর পাকিস্তানের মধ্যে শুরু হয়ে গেল ভয়ঙ্কর যুদ্ধ (Pakistan Afghanistan War)!
পরিস্থিতি এমন যে পাকিস্তানে জারি করতে হয়েছে জরুরী অবস্থা! শুধু তাই নয়, আফগানিস্থানের কাছে মাথাও নত করেছে তারা, পাঠিয়েছে সংঘর্ষবিরতি, শান্তি, সমঝোতার প্রস্তাবও।
অন্যদিকে পাকিস্তান শুরু করেছে আফগানিস্থানের ওপর ‘অপারেশন ঘাজ়াব লিল হক’!
হ্যাঁ ঠিকই শুনেছেন!
২০২৬-এর ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতেই, পাকিস্তানের মসজিদে বিস্ফোরণ, আর ফেব্রুয়ারির শেষে আফগানিস্থানের মাদ্রাসায় আক্রমণ দিয়ে যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল, এবার সেই সংঘর্ষ নিয়ে নিয়েছে রনং দেহি রূপ! রমজান মাসের তোয়াক্কা না করেই দুই দেশ উঠে পড়ে লেগেছে একে অপরের অস্তিত্ব মেটাতে! যা ইতিমধ্যেই কেড়ে নিয়েছেদুই দেশের কয়েকশো সেনা এবং নাগরিকের প্রাণ!
কিন্তু, হঠাৎ করেই কী নিয়ে আফগানিস্থান আর পাকিস্তানের মধ্যে ফের শুরু হয়ে গেল লড়াই? ঠিক কী কী আপডেট পাওয়া গিয়েছে এখনও অবধি এই যুদ্ধ নিয়ে? তবে কি এবার সত্যিই তালিবানদের কাছে মাথা নত করবে পকিস্তান? কেনই বা এই যুদ্ধের কারণে হঠাৎ করে ভারতের দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলছে পাকিস্তান?
জানলে অবাক হবেন – যে পাকিস্তান নিজেদের মুসলিম বিশ্বের এক অন্যতম নেতা হিসাবে দাবী করে, আজ তারাই রমজান মাস চলাকালীন আক্রমণ করল মুসলিম জনতার ওপর! হামলা চালাল মাদ্রাসার ওপর!
যে পাকিস্তান আগে নিজেরাই, রমজান মাস চলাকালীন গাজার ওপর ইজরায়েলের আক্রমণ নিয়ে করেছিল নিন্দা, আজ তারাই করল সেই একই কাজ! যুদ্ধ ঘোষণা করে ডিল আর এক মুসলিম দেশ আফগানিস্থানের ওপর!
আজ India Hood ডিকোড-এ আমরা তুলে ধরবো এমন কিছু তথ্য, যা পরিষ্কার করে দেবে পাকিস্তানের নীচ মনোভাব সম্পর্কে। পরিষ্কার করে দেবে, তারা আর কোনও রাষ্ট্র নেই, আমেরিকার গোলামে পরিণত হয়েছে। তাই ধৈর্য ধরে লেখাটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
রমজান মাসে আফগানিস্থানের মাদ্রাসায় বোমা হামলা!
দিনটা ২১শে ফেব্ররুয়ারি, রমজান মাস চলাকালীন, গভীর রাতে হঠাৎ করেই আফগানিস্তানের পক্তিকা প্রদেশের বরমল জেলার এক মাদ্রাসায় বিমান হামলা চালানো হয়। আর হামলার অভিযোগ ওঠে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। জানা যায়, এই হামলার করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে F-16 এবং JF-17 বিমান থেকে। যার ফলে মৃত্যু হয় প্রায় ৭০ জন আফগান নাগরিকের।
এরপর পাক সেনার তরফ থেকে বিবৃতি জারি করে জানানো হয়,“আফগানিস্তানে জঙ্গিদের বেশ কয়েকটি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।“
এরপর ২২শে ফেব্রুয়ারি, আফগানিস্তানের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই হামলা চালানো হয়েছে বসতি এলাকায়। যার ফলে নিরীহ মানুষদের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই আবার মহিলা এবং শিশু। এর পাশাপাশি আফগানিস্তানের তালিবান প্রশাসন এই হামলা বরদাস্ত করবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেয়।
আর এরপর ২৫শে ফেব্রুয়ারি, কথা মতো কাজ করে দেখায় আফগানিস্থান সরকার। নিজেদের সরকারি এক্স হ্যান্ডলে আফাগনিস্তান দাবি করে, “পাকিস্তানে বিমানহামলা চালানো হয়েছে। সেই হামলায় অন্ততপক্ষে ৫০ পাক সেনা নিহত হয়েছেন। এই লড়াই থামবে না।“
এরপর ২৬শে ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে আফগান-পাক সীমান্ত। গোলাগুলি থেকে শুরু করে আকাশপথে হামলা সবই চলতে থাকে জোর কদমে। আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লা মুজাহিদ বলেন, ‘‘আমাদের সেনারা নাইট ভিশন এবং লেজ়ার নিয়ন্ত্রিত অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এ বার পাকিস্তানি ফৌজদের নরকে পাঠাব।’’ তার পরেই পাল্টা জবাব দেয় পাকিস্তানও।
আফগানিস্থানের দাবি – এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের ৫৫ জন সেনার মৃত্যু হয়েছে। মার্কিন এফ-১৬ পাক যুদ্ধবিমান ধ্বংস করা হয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি – এখনও পর্যন্ত দুই পাক সেনার মৃত্যু হয়েছে। উল্টো দিকে মারা গিয়েছেন ৩৬ জন আফগান সেনা। যদিও যুদ্ধবিমান নিয়ে কোনও মন্তব্য করেনি পাকিস্তান।
তবে, এই হামলা কি হঠাৎ করেই পাকিস্তান শুরু করল?
না। এর পেছনে রয়েছে ৬ই ফেব্রুয়ারির একটি ঘটনা। যেদিন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের শেহজাদ টাউন এলাকার শিয়া টারলাই ইমামবাড়ার শিয়া মসজিদে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ হয়। ওই বিস্ফোরণের ফলে মৃত্যু হয় প্রায় ৩১ জনের। এর পর ৭ই ফেব্রুয়ারি, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বান্নু এলাকায় পাকিস্তানের এক সেনাকর্মী ও এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিহত হন।
এই নিয়ে পাকিস্তানের তরফ থেকে জানানো হয়, যে ভারতের মদতে আফগানিস্তানে বসে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলার পরিকল্পনা করছে। সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িতও হচ্ছে ভারতের মদতে। আর এই সমস্ত জঙ্গিরা আফগানিস্থানের কাবুলে গিয়ে প্রশিক্ষণ নিয়ে আসছে। যদিও ভারতের তরফ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হচ্ছে। আর পাকিস্তানও নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে কোনও প্রমাণও দেখাতে পারেনি।
আর সেই হামলার প্রতিশোধ নিতেই এবার পাকিস্তান এই হামলা চালিয়েছে।
আর পাকিস্তান আর আফগানিস্থানের এই যুদ্ধ দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে আফগানিস্থান এবং পাকিস্তান সীমান্তে টানা ১০ দিন সংঘর্ষ চলে, যার ফলে দুই দেশেই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রাণহানি হয়। তবে, সেই সংঘর্ষে পাকিস্তানের প্রচুর সেনাবাহিনী মারা গেলেও, কিন্তু পাকিস্তানের আক্রমণে বেশিরভাগ প্রাণহানি হতে থাকে আফগানিস্থানের সাধারণ জনগণের।
এরপর ২০২৫-এর অক্টোবরেই পাকিস্তান ফের হামলা করে আফগানিস্থানে। যার ফলে মারা যায় আফগানিস্থানের তিন ক্রিকেটার সহ ৫ জন সাধারণ নাগরিক।
এরপর ওই বছরের নভেম্বর মাসে, ফের আফগানিস্থানের ওপর পাকিস্তানের তরফ থেকে বিমান হামলা করা হয় যার ফলে ১০ জন সাধারণ আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়।
অর্থাৎ, এই কথাগুলো বলার আমাদের একটাই উদ্দেশ্য, আর সেটি হল – যতবার পাকিস্তানের তরফ থেকে আফগানিস্থানে হামলা করা হয়েছে মৃত্যু হয়েছে সাধারণ মানুষের! জঙ্গি মৃত্যুর প্রমাণ খুবই কম পাওয়া গিয়েছে।
তবে, অনেক জিওপলিটিক্স বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকার বাগরাম এয়ারবেস পুন্রুদ্ধার করার জন্যই পাকিস্তানকে ব্যবহার করে আফগানিস্থানে এই হামলা চালানো হচ্ছে। যাতে আফগানিস্থান, আমেরিকার কথা মেনে নেয়।
এবার আমরা আপনাদের জানাবো, পাকিস্তান এই জঙ্গি বলতে ঠিক কাদের কথা বোঝাতে চেয়েছে!
আপনাদের জানিয়ে দিই, এখানে জঙ্গিঘাঁটি বলতে তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান অর্থাৎ টিটিপি-কে বোঝানো হয়েছে, যাদের ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। এই জঙ্গি গোষ্ঠী আদতে পাকিস্তানের হলেও, আদর্শগতভাবে এরা তালিবানপন্থী, এবং এরা পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করে। আর মজার বিষয় কি জানেন? যে পাকিস্তান একসময় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে কৌশলগত সম্পদ ভাবত, আজ তারাই পাকিস্তানের ভিতরে আগুন ধরাচ্ছে।
কিন্তু এই তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান গোষ্ঠী কারা এবং পাকিস্তানের গোষ্ঠী হওয়া সত্ত্বেও এদের সাথে পাকিস্তানের কিসের শত্রুতা, এই সবকিছু নিয়ে আমাদের চ্যানেলে একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন সেই ডিকোড ভিডিওটি।
এবার জানবো বারবার কেন ভারতকে এর মধ্যে টানা হচ্ছে? ভারত কি সত্যিই এই যুদ্ধে নাক গলাবে?
দিনটা ১৩ই নভেম্বর, ২০২৫। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ, পাকিস্তানের হামলার জন্য আফগানিস্থানের পাশাপাশি ভারতকে তো দায়ী করেই, উল্টে দুজনের সাথেই একসাথে লড়ার হুমকি দেয়। জানিয়ে দেয়, পাকিস্তান তৈরি কাবুল এবং নিউ দিল্লির সাথে লড়ার জন্য। সাথে এও বলে, ভারতের সাথে যুদ্ধ সম্ভব।
কিন্তু, এর কারণটা কি?
এর কারণ ভারত আর আফগানিস্থানের সম্পর্ক। আফগানিস্থান ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের শিকড় আমরা লক্ষ্য করেছিলাম জখন ২০২৫ সালে আফগানিস্থানের বিদশ মন্ত্রী আমির মুত্তাকি ভারত সফরে এসেছিলেন। আমাদের চ্যানেলে ভারত ও তালেবানদের সম্পর্ক নিয়ে একটি বিস্তারিত ভিডিও রয়েছে। আপনি আই বাটনে ক্লিক করে দেখে নিতে পারেন সেই ডিকোড ভিডিওটি।
তো এই সম্পর্কের জন্যই পাকিস্তান ভেবে নিয়েছে, হয়তো আফগানিস্থানে হামলা করলে, ভারত পাকিস্তানের ওপর হামলা করতে পারে। তাই পাকিস্তান আগে থেকেই এই সিগন্যাল দেয় ভারতকে।
তবে, একটা বিষয় পরিষ্কার – ভারত কিন্তু আফগানিস্থান এবং পাকিস্তানের এই ঝামেলার মধ্যে নাক গলাবে না। তবেও ভারত কিন্তু চুপ করেও নেই। পাকিস্তানের তরফ থেকে আফগানিস্থানে যে হামলা করা হয়েছে তার কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভারত।
২২শে ফেব্রুয়ারি, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাকিস্তানের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, ‘‘পবিত্র রমজান মাসে আফগান-ভূখণ্ডে পাকিস্তানের বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে ভারত। এই হামলার ফলে মহিলা ও শিশু-সহ বহু প্রাণহানি হয়েছে। এই ঘটনায় গভীর ভাবে শোকাহত ভারত।” তিনি আরও লেখেন, “এই ঘটনাটি পাকিস্তান সরকারের ব্যর্থতাকে ফের প্রকাশ্যে এনেছে।” রণধীর জানান, আফগানিস্তানের পাশে আছে ভারত।
তবে ভারত হাতে না মারলেও একরকমভাবে জলে মেরে দিয়েছে পাকিস্তানকে।
একদিকে ইতিমধ্যেই স্থগিত রয়েছে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া Indus Waters Treaty।
এবার অন্যদিকে পাকিস্তানে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ হয়ে যাবে রবি নদীর উদ্বৃত্ত জল। কারণ, পাঞ্জাব–জম্মু ও কাশ্মীর সীমান্তে শাহপুর কান্ডি বাঁধ প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে হচ্ছে। আর সেই বাঁধ চালু হলে রবি নদীর উদ্বৃত্ত জল পাকিস্তানে প্রবাহিত হওয়া বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীরের মন্ত্রী জাভেদ আহমেদ রানা।
একই সঙ্গে ভারত চেনাব নদীর উপর একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা ২০২৭–২৮ সালের মধ্যে শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থাৎ, ভারত সরাসরি লড়াইতে না নামলেও, আড়ালে যে পাকিস্তানের ওপর সারজিক্যাল স্ট্রাইক করে যাচ্ছে সে কথা কিন্তু বলাই বাহুল্য।
ফলত, ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আফগানিস্থান – পাকিস্তান সীমান্ত! কী মনে হয়ে এর শেষ কোথায় গিয়ে হবে? কী হবে এর ভবিষ্যৎ? পাকিস্তান কি সত্যিই ধ্বংসের দিকে এগোচ্ছে?
নাকি এটা আরও বড় যুদ্ধের প্রস্তুতি? আফগানিস্তান–পাকিস্তান সীমান্তে কি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ হবে?
ভারত কি শেষ পর্যন্ত নিরপেক্ষ থাকবে? জানাতে ভুলবেন না আপনার মতামত কমেন্ট করে।