সহেলি মিত্র, কলকাতা: বকেয়া ডিএ (Dearness allowance)) নিয়ে নয়া জলঘোলা শুরু বাংলায়। আরও সময় চাইল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন। মার্চ নয়, আগামী ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ অবধি সময়সীমা চেয়ে নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আর সরকারের এই আবেদন রাজ্য সরকারি কর্মীদের কাছে যথেষ্ট ধাক্কার সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
বকেয়া ডিএ মেটাতে সময় চাইল সরকার
সরকারের এখন সাফ কথা, ‘এখন ডিএ দিতে পারব না।’ এমনিতে গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ২০ লক্ষ সরকারি কর্মচারীকে স্বস্তি দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তাদের মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) প্রদানের নির্দেশ দেয়। আদালতের দাবি, এটা সরকারি কর্মীদের অধিকার। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং প্রশান্ত কুমার মিশ্রের একটি বেঞ্চ রাজ্য সরকারকে ৩১ মার্চের মধ্যে তাদের কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ-র ২৫% পরিশোধ করার নির্দেশ দিয়েছে। তারা বেতন প্রদানের তদারকির জন্য সুপ্রিম কোর্টের তিনজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং অন্য একজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে চার সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়।
বাকি ৭৫% ডিএ-র জন্য একটি পেমেন্ট পরিকল্পনা ঠিক করার জন্য কমিটিকে রাজ্য সরকারের সাথে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে ৬ মার্চের মধ্যে তাদের সুপারিশ পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পেমেন্ট প্রদানের পর রাজ্য সরকারকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আদালতে একটি সম্মতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। যদিও এখন বকেয়া ২৫% DA-র প্রথম কিস্তি দিতে সময় চায় রাজ্য। ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়াতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন।
নতুন যুক্তি সরকারের
সকলের আশঙ্কা সত্যি করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্য সরকার। সেখানে তাদের বক্তব্য, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া ডিএ মেটানো তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এই নিয়ে তাদের যুক্তি ২০১৬ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া সরকারি কর্মী এবং পেনশনভোগীদের সার্ভিস বুক খুঁজে বার করতে অনেকটা সময় লাগবে। এহেন পরিস্থিতিতে নাকি ডিসেম্বর মাসের ৩১ তারিখের আগে তারা কোনও ভাবেই ডিএ দিতে পারবে না।