প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে সারদা কেলেঙ্কারি মামলা (Sarada Scam Case) নিয়ে বড় আপডেট দিল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রায় ১৩ বছর পর মামলার তদন্তে রাজ্যের গঠিত বিচারপতি শ্যামল সেন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের নির্দেশ দিল উচ্চ আদালত (Calcutta High Court)। আশঙ্কা করা হচ্ছে এত বছর পর এবার হয়ত আর্থিক হিসেব-নিকেশ সহ যাবতীয় রিপোর্ট এবং দীর্ঘদিন ধরে গোপন থাকা গুরুত্বপূর্ণ নথি এবার সকলের সামনে আসতে চলেছে।
বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল কমিশন
উল্লেখ্য, শুরু থেকেই সারদা কেলেঙ্কারিকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র শোরগোল হয়ে চলেছে। ২০১৩ সালে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। সেই কারণে রাজ্য সরকার, বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে একটি কমিশন গঠন করেছিল। আর সেই কমিশনের মাধ্যমে রাজ্যের ঘোষিত ৫০০ কোটির তহবিল থেকে প্রায় ২২৫ কোটি টাকা আমানতকারীদের মধ্যে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করে। পরে কমিশনের কাজ শেষ হলে সমস্ত হিসেব নিকেশ এবং অবশিষ্ট অর্থ রাজ্য সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এবং একটি প্রতিলিপি আদালতের কাছেও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু প্রকাশ্যে আনা হয়নি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট।
পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পেশের নির্দেশ হাইকোর্টের
এক যুগ কেটে গেলেও বিচারপতি শ্যামল সেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিশন রিপোর্ট না বের করায় আদালতে মামলা করা হয়। গতকাল, মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানি ওঠে হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চ। আমানতকারীদের আইনজীবী তাঁদের পক্ষের মন্তব্য পেশ করেছেন। কিন্তু এদিনও চিটফান্ডের মামলাগুলিতে সিবিআই ও ইডি-র আইনজীবী না থাকা নিয়ে ডিভিশন বেঞ্চ ক্ষোভ প্রকাশ করে। বিচারপতি ভরদ্বাজ বলেন, “চিটফান্ডের যাবতীয় কোম্পানির তদন্ত এই দুই সংস্থার হাতে। অথচ লক্ষ্য করছি, ৯০ শতাংশ চিটফান্ডের মামলায় এই দুই এজেন্সির আইনজীবী গরহাজির থাকছেন। এইভাবে চললে, আদালত পদক্ষেপ করতে বাধ্য হবে।” এরপরই আদালত স্পষ্ট জানায় শীঘ্রই ওই রিপোর্ট মামলার সব পক্ষকে দেখাতে হবে।
আরও পড়ুন: হবে মাল্টিট্র্যাকিং, চতুর্থ লাইন! বাংলায় ফের একগুচ্ছ রেল প্রকল্পের ঘোষণা
প্রসঙ্গত, সারদা কেলেঙ্কারি নিয়ে দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের মধ্যে এই নির্দেশ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। আমানতকারীদের আইনজীবী শুভাশিস চক্রবর্তী ও অরিন্দম দাস বলেন, এতদিনে সারদা সংক্রান্ত শ্যামল সেন কমিশনের যাবতীয় রিপোর্ট প্রকাশ্যে এলে নতুন করে এই রিপোর্ট নিয়ে অগ্রসর হওয়া যাবে। এখন দেখার কবে এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসে।