সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রমজানের নামাজের (Ramadan Prayers) সময় মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য মোবাইলে অ্যালার্ম সেট করেছিলেন এক যাত্রী। তবে সেই ঘটনাকে ঘিরেই হল বড় ভুল বোঝাবুঝি। নিরাপত্তার আশঙ্কায় মাঝ আকাশেই রুট বদলে জরুরি অবতরণ করতে হল একটি যাত্রীবাহী বিমানকে (US Flight News)। পরে তদন্ত করে জানা যায়, গোটা ঘটনাটাই ছিল একটা সাধারণ ভুল বোঝাবুঝির জের। ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। গত সপ্তাহে সাউথ-ওয়েস্ট এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট মাঝপথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। ন্যাশভিল থেকে ফ্লোরিডার ফোর্ট লডারডেলের উদ্দেশ্যে উড়ে যাওয়া বিমানটিকে জরুরী ভিত্তিতেই মাঝপথে নামানো হয়। জানুন সবটা।
ঘটনাটি কী?
রিপোর্ট অনুযায়ী, ফ্লাইটটি ছেড়েছিল ন্যাশভিল আন্তর্জাতিক এয়ারপোর্ট থেকে সন্ধ্যা ৭:১৫ মিনিটে। তবে উড়ান শুরু হওয়ার ৩০ মিনিট পরেই বিমানের ভিতরে হঠাৎ করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, এক যাত্রী রমজান মাসে নামাজের সময় মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য নিজের ফোনে একটি টাইমার সেট করে রেখেছিলেন। কিন্তু সেই অ্যালার্মটি ঘিরেই বিমানের ভেতরে তৈরি হয় ভুল বোঝাবুঝি, আর সেটাকে সম্ভাব্য নিরাপত্তার আশঙ্কা হিসেবে ধরা হয়।
বিমানে চাপা বেশ কয়েকজন যাত্রী জানান যে, আচমকায় বিমান কর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাইকে ঘোষণা করে বলা হয়, যাত্রীদের মাথা নিচু করে বসে থাকতে আর হাত উপরে তুলতে। এক যাত্রী জানান, হঠাৎ করে এই ঘোষণা শুনে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। প্রথমে কেউই বুঝতে পারছিলেন না যে, ঠিক কী ঘটেছে। অনেকেই ভাবছিলেন হয়তো যান্ত্রিক কোনও সমস্যা বা চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি অ্যালার্ট।
A passenger on a Southwest Airlines flight was removed after their call to prayer was mistaken for a bomb threat. Officials later called it a “misunderstanding” after the Florida-bound plane made an emergency landing in Georgia. pic.twitter.com/VdDqLM1GfU
— Al Jazeera English (@AJEnglish) March 10, 2026
আরও পড়ুন: “আমার জনগণকে রক্ষা করুন মা দুর্গা”, চলে যাওয়ার আগে রাজ্যবাসীকে খোলা চিঠি বোসের
আটলান্টায় জরুরী অবতরণ
এদিকে এই ঘটনার পর বিমানটি ঘুরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় আটলান্টায়। পরে রাত নটা নাগাদ বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করেছিল। তারপর আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিমানে ওঠে আর সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে নামিয়ে নিয়ে যান। এমনকি পরে যাত্রীদের লাগেজ বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হয়। আর কে-৯ ইউনিট দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। ঘটনার তদন্ত করেছিল ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন এবং ফেডারেল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। তবে তদন্তে জানা যায় যে, ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনও রকম বাস্তব নিরাপত্তার হুমকির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি শুধুমাত্র ভুল বোঝাবুঝি ছিল। তাই ওই যাত্রীর বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।