সহেলি মিত্র, কলকাতা: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ (Dearness allowance) দিতে ব্যর্থ হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। সেইসঙ্গে ডিএ দেওয়ার সময়সীমা যাতে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ সাল অবধি বৃদ্ধি করা হয় তার জন্য সরকারের তরফে এমএ, রিভিউ পিটিশন দাখিল করা হয়েছে শীর্ষ আদালতে। এহেন পরিস্থিতিতে আগামীকাল ১৩ মার্চ বৃহত্তর আন্দোলনে (DA Protest) সামিল হতে চলেছেন সরকারি কর্মীরা। এই আন্দোলনে থাকবেন শিক্ষকরাও। যদিও কিছু শিক্ষকের উদ্দেশ্যে এবার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের তরফে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। আর এই নির্দেশিকাই এখন যত বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষ নোটিশ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের
যেহেতু এখন মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখা চলছে। তাই যে সকল শিক্ষক এই কাজ করছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে পর্ষদের সাফ বার্তা, ধর্মঘট হলেও স্কুলে যেতে হবে শিক্ষকদের। সেইসঙ্গে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক পরীক্ষার খাতা দেখার সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকেরা কোনও ভাবেই আগামী ১৩ মার্চ ‘লিভ অফ অ্যাবসেন্স অন ডিউটি’ নিতে পারবেন না। আর এই ঘটনায় একদিকে যেমন অবাক শিক্ষকরা তেমনই ক্ষুব্ধও বটে। ডিএ ইস্যু থেকে নজর ঘোরাতে সরকারের এটি নতুন চাল বলে দাবি করছেন অনেকে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হয়েছে বলে সরব হল একাধিক শিক্ষক সংগঠন। ধর্মঘট যাতে সফল না হয় তার চেষ্টা করা হচ্ছে।
কী বলছেন শিক্ষকরা?
এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সব স্কুলের প্রধান পরীক্ষক, পরীক্ষক এবং স্ক্রুটিনির সঙ্গে যুক্ত শিক্ষকদের। মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নোটিশ প্রসঙ্গে বড় মন্তব্য করেছেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল। তিনি জানান, ‘সাধারণত মাধ্যমিকের খাতা দেখা, নম্বর জমা দেওয়া-সহ পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যাঁরা যুক্ত রয়েছেন তাঁরা স্কুল থেকে ‘লিভ অফ অ্যাবসেন্স অন ডিউটি’ নিয়ে থাকেন। অর্থাৎ সেই দিন গুলি তাঁরা স্কুলে যান না। সরকার যে ভাবে শিক্ষক কর্মচারীদের বঞ্চিত করছে তাতে এই ধর্মঘটে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যাবে বুঝতে পেরে পর্ষদ মাঠে নেমেছে। কিন্তু যতই ফতোয়া জারি করুক না কেন ধর্মঘট হচ্ছেই এবং তাতে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীরা ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবেন এবং সরকারকে উপযুক্ত জবাব দেবেন।’ শিক্ষকদের বক্তব্য, ধর্মঘটে যোগ দেওয়ার অধিকার সরকার তো কেড়ে নিতে পারে না।
আরও পড়ুনঃ কালো মেঘে ঢাকবে আকাশ, ঘূর্ণাবর্তের জেরে ৫ জেলায় দুর্যোগ! আজকের আবহাওয়া
এক আন্দোলনকারী জানান, “যেহেতু সুপ্রিম কোর্ট ৬ মার্চ রাজ্য সরকারকে প্রথম কিস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, তাই ৬ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর আমরা ১৩ মার্চ প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। আমাদের ন্যায্য অধিকার অর্জনের জন্য আমরা যতদূর যেতে হবে ততদূর যেতে প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন যে এই প্রতিবাদ আন্দোলনের পাশাপাশি, ফোরাম এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তাদের আইনি বিকল্পগুলিও প্রস্তুত রেখেছে। এখন দেখার বিষয় হলো, রাজ্য সরকার সরকারি কর্মচারীদের প্রস্তাবিত কর্মবিরতির ডাকে কীভাবে সাড়া দেয়।