DA ধর্মঘটে উত্তপ্ত খাদ্যভবন, কর্মীদের ঢুকতে বাধা, বিস্ফোরক ভাস্কর ঘোষ

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) মাঝেই DA ইস্যু নিয়ে তৈরি হল মহাবিতর্ক। আজ, শুক্রবার ডিএ ধর্মঘটকে (DA Strike) কেন্দ্র উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে, এমতাবস্থায় খাদ্যভবন যেন হয়ে উঠেছে ঝামেলার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে তৃণমূল সমর্থনকারী সরকারি কর্মচারী, অন্যদিকে ডিএ আন্দোলনকারীদের স্লোগান পাল্টা স্লোগান চলছেই। ধর্মঘট ঘিরে দফায় দফায় বাড়ছে উত্তেজনা। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা নাকি কাজে আসা সরকারী কর্মীদের ঢুকতে বাধা দিচ্ছেন।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি খাদ্যভবনের সামনে

পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রশাসনের বিরুদ্ধে আজ অর্থাৎ শুক্রবার ধর্মঘট ডেকেছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ-সহ একাধিক সরকারি কর্মচারী সংগঠন। তা ঘিরেই কার্যত ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয় খাদ্যভবনের সামনে। সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের নেতৃত্বে খাদ্যভবনের গেটে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ধর্মঘটীরা। যেসব গাড়ি আসছে তার কাছে এগিয়ে গিয়ে ধর্মঘটে শামিল হওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। অন্যদিকে, কিছুটা দূরে তৃণমূলের সংগঠনের কর্মী-সমর্থকরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তাঁরা চেষ্টা করছেন, যারা ধর্মঘট বিফল করে অফিস করতে চান তাঁদের পাশে থাকতে। উঠছে স্লোগানের রেষারেষি। একদিক থেকে উঠল ‘জয় বাংলা স্লোগান’, অন্যদিক বলে উঠল, ‘ওরা সব সরকারি দালাল’

কী বলছেন আন্দোলনকারী ভাস্কর ঘোষ?

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ জানান, “আমরা আগেই জানিয়েছিলাম যে ধর্মঘটটা কর্মচারীদের স্বার্থে, রাজ্যটাকে বাঁচানোর স্বার্থে ডাকা হয়েছে। রাজ্যে যে প্রশাসনিক দুর্নীতি, শূন্যপদে নিয়োগ নেই…তাই আমরা আপনাদের বিবেকের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যে এই ধর্মঘটে শামিল হয়ে রাজ্য সরকারকে অন্তত বলুন যে সে তার রাজধর্ম পালন করুক। এই আবেদনটুকু জানানোর সময় তাঁরা বলছেন যে, এটাও করা যাবে না। এটাকে যদি আটকানো বলেন তাহলে হাজার বার পথ আটকাব। পারলে ধর্মঘট করুক। আমাদের আবেদন থাকবে ধর্মঘট করার।”

আরও পড়ুন: গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে করাচি, কোয়েটা, ইসলামাবাদ! পাকিস্তানকে হুঁশিয়ারি তালিবানের

প্রসঙ্গত, সরকারি কর্মীদের ধর্মঘট বানচাল করতে রীতিমতো মরিয়া হয়ে উঠেছে রাজ্য প্রশাসন। গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার নবান্নের তরফে এই প্রসঙ্গে নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেখানে প্রশাসনের তরফে সাফ জানানো হয়েছিল যে, ধর্মঘটের দিন প্রত্যেক সরকারি কর্মীর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। ওইদিন কোনও কর্মী যদি অনুপস্থিত থাকেন তাহলে তাঁকে ‘ডাইস নন’ হিসাবে গণ্য করা হবে অর্থাৎ ওই দিনের বেতন কেটে দেওয়া হবে। আর সেই ভয়েই এদিন একাধিক কর্মীকে কাজে ফিরতে দেখা গিয়েছিল

Leave a Comment