খারিজ ধর্ষণের অভিযোগ! ‘সত্যিটা সামনে এল’ জামিন পেতেই বললেন ননসেন শমীক

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফেব্রুয়ারিতে আচমকাই শমীক অধিকারীর (Shamik Adhikary) গ্রেফতারির খবর শুনে চমকে উঠেছিল গোটা নেটপাড়া। তাঁর বিরুদ্ধে প্রেমিকাকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠেছিল, রুজু করা হয় ধর্ষণের মামলা। কয়েকদিন জুডিশিয়াল কাস্টডিতে ছিলেন তিনি। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর অবশেষে আদালত তাঁকে জামিন মঞ্জুর করেছে (Shamik Adhikary Bail Granted)। বাড়ি ফিরলেন শমীক।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট মোতাবেক, নির্যাতিতা ছিলেন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর শমীক অধিকারীর বন্ধু তথা প্রেমিকা। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, শমীক ফ্ল্যাট শিফটিং করার সময় তরুণীকে বাড়িতে ডেকেছিল। তখনই শুরু হয়েছিল সমস্যা, হাতাহাতি এবং ধস্তাধস্তির পর ওই তরুণীর মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঘরে আটকে রেখে মানসিক এবং ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এরপরেই শমীকের বিরুদ্ধে ন্যায় সঙ্গীতার ১২৭ (২), ১১৫ (২), ৩৫১ (২) ধারায় মামলার রুজু করা হয়। যদিও জেলে থাকাকালীন যতবার তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন, ততবার তিনি বলেছিলেন যে তাঁকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে, তিনি কোনও অপরাধ করেননি। অবশেষে বৃহস্পতিবার তাঁর জামিন হয়েছে।

জামিন পেলেন শমীক

আদালতে শমীক অধিকারীকে প্রথমে জামিন দেয়নি বিচারপতি, অবশেষে ৪৫ দিন পর জামিনে মুক্ত হয়ে বাইরে এলেন তিনি। একই সঙ্গে খারিজ হল তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণের অভিযোগ। এদিন জেল থেকে বেরিয়েই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন শমীক। আবেগপ্রবণ হয়ে তিনি বলেন, “আমি জানতাম সময় লাগবে, সত্যিটা বাইরে আসতে। কিন্তু…। সত্যি বলতে একটাই চিন্তা ছিল, বাবা মা কী দিয়ে যাচ্ছে। এই চিন্তাতেই আমি ভেঙে পড়েছিলাম। আমি বাড়ি ফিরছি, সেটা এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “আমায় ফাঁসানো হয়েছিল। সময় সেটার উত্তর দিয়েছে। সত্যের জয় হয়েছে। আমায় যে টেনে নামানোর চেষ্টা করা হল…. আমার বাবা মা, দাদা, আমার উকিলরা আমার পাশে থাকলে আমি এর দশ গুণ উপরে উঠব।”

আরও পড়ুন: মোদীর ব্রিগেডমুখী বাসে হামলা, ভাঙল কাঁচ! বেলদায় আক্রান্ত একাধিক বিজেপি কর্মী

জামিনে মুক্ত হলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবারও কন্টেন্ট বানাতে পারবেন কিনা ননসেন ওরফে শমীক সেই নিয়ে উঠছে নানাবিধ প্রশ্ন। সেই নিয়ে তাঁর আইনজীবী জানান “হ্যাঁ, ভিডিও বানাতে পারবেন। তবে বেশ কিছু শর্ত মানতে হবে তাঁকে। ৩ মাস ওকে রেস্ট্রিকশন মেনে থাকতে হবে।” যদিও আইনগত লড়াই এখনও শেষ হয়নি। জামিন পেলেও মামলার তদন্ত চলবে এবং আদালতেই নির্ধারিত হবে অভিযোগের সত্যতা।

Leave a Comment