সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ গ্যাস সিলিন্ডারের (Gas Cylinder) এবার PNG নিয়ে বড় নির্দেশিকা জারি করল কেন্দ্রীয় সরকার। ইরান ইজরায়েলের মধ্যেকার যুদ্ধের আঁচ ভারতের হেঁশেলে পড়েছে। একদিকে যখন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন আমজনতা, তখন আচমকা সরকার ঘরোয়া রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের দাম আকাশছোঁয়া করে দিয়েছে। এখনও বিষয়টি অনেকে হজম করতে পারেননি, এরই মধ্যে এবার পাইপযুক্ত প্রাকৃতিক গ্যাস (PNG) নিয়ে বড় ঘোষণা করল কেন্দ্র। নেওয়া হয়েছে কড়া পদক্ষেপ। চলুন বিশদে জেনে নেবেন।
PNG নিয়ে বড় ঘোষণা কেন্দ্রের
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক শনিবার ঘোষণা করেছে যে, যাদের বাড়িতে পিএনজি সংযোগ রয়েছে তারা আর ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডার সংরক্ষণ, নতুন কানেকশন গ্রহণ বা সিলিন্ডার পুনরায় রিফিল করতে পারবেন না। সংশোধিত সরবরাহ নির্দেশের অধীনে, তেল কোম্পানিগুলিকে এই ধরনের গ্রাহকদের এলপিজি কানেকশন বা পুনরায় রিফিল প্রদান থেকেও নিষেধ করা হয়েছে।
কেন এরকম সিদ্ধান্ত সরকারের?
সরকার এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে নিয়েছে যখন বিশ্বব্যাপী পরিস্থিতি এলপিজি সরবরাহের উপর প্রভাব ফেলছে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কারণে ভারতে এলপিজি চালান হ্রাস পাচ্ছে। এক রিপোর্ট অনুসারে, ৯ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সপ্তাহে ভারতে এলপিজি সরবরাহ আনুমানিক ২.৭ লক্ষ টন পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেছে, যে সমুদ্রপথ দিয়ে ভারতের এলপিজির একটি বড় অংশ প্রবেশ করে। এর ফলে আমদানি ব্যাহত হয়েছে এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাপ বেড়েছে। ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি গ্রাহক এবং তার চাহিদার প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভর করে।
আরও পড়ুনঃ ঘরে বসেই ট্রান্সফার হবে পিএফ অ্যাকাউন্ট, নয়া সুবিধা আনল EPFO
এদিকে দেশের রিফাইনারিগুলিকে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার ফলে দেশীয় এলপিজি উৎপাদন প্রায় ২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। মূলত চাহিদা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার সম্প্রতি রান্নার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। ৭ মার্চ, প্রায় এক বছর পর ১৪.২ কিলোগ্রামের একটি ঘরোয়া এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়, যা প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে ৯১৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে।