প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে গতকাল, শুক্রবার বিকেলে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে (West Bengal Election 2026) টার্গেট করে ইস্তেহার প্রকাশ করে তৃণমূল (Trinamool Congress Manifesto)। যার পোশাকি নাম দেওয়া হয় ‘প্রতিজ্ঞা’। রাজ্যবাসীর কাছে একগুচ্ছ ‘প্রতিজ্ঞা’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)। সেখানেই উঠে এল, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, যুবসাথী, দুয়ারে চিকিৎসার কথা। এছাড়াও প্রশাসনিক দিক থেকে নতুন জেলা এবং নতুন পুরসভা সহ ১০ প্রতিজ্ঞার কথা ঘোষণা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ‘আমাদের অঙ্গীকার, প্রতিজ্ঞা, যা বলি, তাই করে দেখাই।’
নতুন সাত জেলার ঘোষণা মমতার
মহিলা, যুব, কৃষক, সাধারণ পরিবার—প্রায় সব স্তরের মানুষের জন্য একাধিক আর্থিক ও সামাজিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের ইস্তেহারে। পাশাপাশি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ‘বঞ্চনা’র অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক সুরও চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার, কালীঘাট থেকে নির্বাচনী ইস্তেহার ঘোষণার সময় মমতা জানান, নতুন জেলা, নতুন পুরসভা তৈরি করা হবে। রাজ্যে যে নতুন সাত জেলার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলি হল, সুন্দরবন, ইছামতী (উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ মহকুমা ও বাগদা নিয়ে), বসিরহাট, রানাঘাট, বিষ্ণুপুর, বহরমপুর এবং কান্দি। আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা এবং উন্নতমানের পরিষেবা দিতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
২৫টি প্রধান শহরকে মডেল শহর গড়বে সরকার
গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই অনুযায়ী তৃণমূলের ইস্তেহারে ‘মিশন মহানগর’ নামের আরেকটি প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে পশ্চিমবঙ্গের ২৫টি প্রধান শহরকে মডেল শহর হিসাবে তুলে ধরা হবে। তার মধ্যে রয়েছে, হাওড়া, ডায়মন্ড হারবার, বর্ধমান, দুর্গাপুর, বোলপুর, কৃষ্ণনগর, বারাসত, রায়গঞ্জ, শিলিগুড়ি, বহরমপুর, মালদহ, কল্যাণী, শ্রীরামপুর, অণ্ডাল, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, দিঘা, মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, এনকেডিএ এলাকা, গঙ্গারামপুর, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার এবং দার্জিলিং।
আরও পড়ুন: পানিহাটিতে অভয়ার মা দাঁড়ালে বিজেপির লাভ না ক্ষতি? সমীক্ষায় মিলল চমকপ্রদ উত্তর
তৃণমূলের ইস্তেহারে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রাস্তা, বিদ্যুৎ, কৃষি—সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের দাবি করেছে শাসকদল। আগামী ১০ বছরে বাংলা হবে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। ৫ বছরে ৪০ লক্ষ কোটি টাকার অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্যও বড় চমক আনা হয়েছে। জানা গিয়েছে, রাজ্যে সপ্তম পে কমিশন চালু হবে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ধাপে ধাপে মেটানো হবে। এ ছাড়া নতুন প্রশাসনিক ইউনিটও গঠন করা হবে। অর্থাৎ বোঝাই যাচ্ছে এই ইস্তেহারই আগামী নির্বাচনে শাসকদলের প্রধান অস্ত্র হতে চলেছে।