সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ভারতীয় স্পাই থ্রিলার সিনেমা ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ (Dhurandhar: The Revenge) ছবিটির প্রভাব নাকি এবার রুপোলী পর্দা ছাড়িয়ে বাস্তবে আছড়ে পড়েছে। হ্যাঁ, সন্ত্রাসের দেশের (Pakistan) করাচি থেকে আসা সাম্প্রতিক কিছু ভিডিও এবং সোশ্যাল মিডিয়া ট্রেন্ড তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। জানা যাচ্ছে, করাচির অন্যতম ব্যস্ত এবং সংবেদনশীল এলাকা লিয়ারিতে বিরাট তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে স্থানীয় পুলিশ। আর তার লক্ষ্য হচ্ছে ভারতীয় গুপ্তচর খুঁজে বের করা।
সিনেমার চিত্রনাট্য এবার বাস্তবের আতঙ্ক
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একাধিক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে যে, লিয়ারির প্রতিটি অলিগলিতে পুলিশ বাহিনী চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে। এমনকি সাধারণ পথচারী থেকে শুরু করে ফুটপাতের ঘুমন্ত বৃদ্ধ মানুষ, সবাইকেই তল্লাশি করা হচ্ছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। আর ভিক্ষুকদের পাজামা খুলেও পরীক্ষা করা হচ্ছে যাতে কোনও গোপন চিপ বা নথি পাওয়া যায় কিনা। সূত্র অনুযায়ী খবর, ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিতে যেভাবে ভারতীয় চরদের পাকিস্তানের ভিতরে ঢুকে মিশন সফল করতে দেখা গিয়েছে, তাতেই নাকি ঘুম উড়েছে পড়শী দেশের প্রশাসনের।
আসলে সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র হাসেম আলী মজারিকে নিয়ে এখন করাচির নেটপাড়ায় হাসাহাসি আর আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ছবিতে দেখানো হয়েছে কীভাবে একজন ছদ্মবেশী শত্রু শিবিরের সিস্টেমের ভিতরে ঢুকে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতেও দেখা যায় যে, পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে পরিচয়পত্র এবং নথিপত্র দাবি করছে। এ বিষয়ে নেটিজেনদের একাংশের দাবি, করাচি পুলিশ আসলে সিনেমার কাল্পনিক চরিত্রের ছায়া খুঁজছে বাস্তবের লিয়ারিতে।
After Dhurandhar 2, panic grips Pakistan! Now,
The police and locals are searching every street in Lyari, Karachi, for Indian spies.
They hope to capture Hamza and Rizwan.😅#Dhuranandar2 #DhurandharTheRevenge pic.twitter.com/nVwXlOVIlV
— Hunter (@Hunter31800) March 23, 2026
আরও পড়ুন: দৈনিক লেনদেনের নিরিখে ভিসা, মাস্টারকার্ডকে পিছনে ফেলল ভারতের UPI
এদিকে লিয়ারির এই তল্লাশি অভিযানের সবথেকে বড় টুইস্ট ছদ্মবেশী নিয়ে সংশয়। কারণ, ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিতে দেখানো হয়েছে গুপ্তচররা ভোল বদলে শত্রুর ঘরের লোক সেজেই মিশে যেতে পারে। আর এই ভয়ে এতটাই আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, এখন মানুষজন কাউকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। সবথেকে বড় ব্যাপার, করাচির সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে পুলিশ টহলদারি বাড়িয়েছে এবং হাই এলার্ট জারি করা হয়েছে। আর সিনেমার উত্তেজনা করাচির নাগরিকদের মধ্যেও নিরাপত্তাজনিত সংশয় তৈরি করেছে। পাশাপাশি টুইটার এবং ইনস্টাগ্রামে ‘Dhurandhar in Lyari’ হ্যাসট্যাগ ট্রেন্ড করছে। আর সেখানে পাকিস্তান পুলিশকে নিয়ে ট্রোল করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার কথা বলছে স্থানীয়রা।