প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের দিন (West Bengal Election 2026) যতই এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। জনসংযোগ বৃদ্ধি করতে উঠে পরে লেগেছেন নেতা মন্ত্রীরা। এই অবস্থায় এপ্রিল মাসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের (Lakshmir Bhandar) টাকা কবে ঢুকবে, তা নিয়ে উপভোক্তাদের মধ্যে জল্পনা তৈরি হয়েছে। নতুন আর্থিক বছরের শুরুতে পেমেন্ট দেরি হতে পারে কি না, সেই প্রশ্নই এখন স্বাভাবিকভাবে ঘুরছে বহু মহিলার মনে। কিন্তু এবার শোনা যাচ্ছে, ভোটের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত নাকি এই প্রকল্পের টাকা বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে!
ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
একুশের বিধানসভা ভোটের আগে মহিলাদের জন্য এক বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ভোটে জিতেই কার্যকর করেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। বিরোধীরা তৃণমূল কংগ্রেসের ‘খয়রাতি’ রাজনীতির নিন্দা করলেও সময় বুঝিয়ে দিয়েছে, তৃণমূল নেত্রীর এই পদক্ষেপ কতটা সময়পযোগী ছিল। বর্তমানে প্রতি মাসে সাধারণ মহিলারা ১৫০০ টাকা করে পায় এবং তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি মহিলারা প্রতি মাসে ১৭০০ টাকা করে পায়। সবমিলিয়ে সরকারের যে সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে তার মধ্যে এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু এবার সেই প্রকল্প প্রশ্নের মুখে পড়েছে সাধারণের।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা আটকে যাবে?
প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা ঢুকে যায় উপোভোক্তাদের কাছে। কিন্তু এপ্রিল মাস পড়তেই শোনা যাচ্ছে এই ভাণ্ডারের টাকা নাকি দেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করছে সরকার। আর তার অন্যতম প্রধান কারণ হল ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন। আসলে ভোটের সময় আচরণবিধি কার্যকর থাকে। এই সময় নতুন কোনও সরকারি ঘোষণা বা আর্থিক সুবিধা বিতরণে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। তাই হয়ত ভোটের ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কিস্তি আটকে থাকতে পারে বলে অনুমান করছেন অনেকেই। যদিও সরকারিভাবে এখনও কোনো নিশ্চিত ঘোষণা করা হয়নি। তবে এই নিয়ে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ল গ্রাহকদের।
আরও পড়ুন: মুড বদল আবহাওয়ার, বিকেলেই কলকাতা সহ ৬ দক্ষিণবঙ্গের জেলায় বৃষ্টি, মিনি কালবৈশাখী
প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসে যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ এখনও অনেক আবেদনকারীর অ্যাকাউন্টে টাকা না ঢোকায় নানান প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিভিন্ন জেলা থেকে খবর পাওয়া যাচ্ছে যে, ব্যাচ অনুযায়ী টাকার ক্রেডিট করা হচ্ছে। এর ফলে যারা অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করেছিলেন তারা আগের থেকে সিস্টেমে আপলোড ছিল। যার ফলে তাদের যাচাই প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে তাড়াতাড়ি সম্পূর্ণ হয়েছে। যদিও অনেকের অ্যাকাউন্টে এই টাকা ইতিমধ্যে ঢুকতে শুরু করেছে।