সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সিবিআই-কে (Central Bureau of Investigation) এবার মুক্ত হস্ত করে দিল রাজ্যের বিজেপি সরকার (Government of West Bengal)। এবার থেকে আর কোনও তদন্ত করতে গেলে দরকার পড়বে না রাজ্য সরকারের অনুমতি। এতদিন যাবত পশ্চিমবঙ্গে কোনও তদন্ত করার জন্য আলাদা করে অনুমতি দরকার পড়ত। কিন্তু সেই প্রথার অবসান ঘটাল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এবার কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বা কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত যে কোনও মামলার তদন্ত পশ্চিমবঙ্গে অনায়াসে করতে পারবে তদন্তকারী সংস্থা। যদিও একটি ক্ষেত্রে তার ব্যতিক্রম রয়েছে।
বড় সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের
আজ রাজ্যের স্বরাষ্ট্র এবং পার্বত্য বিষয়ক দফতরের তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই বিষয়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। স্পেশাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট ১৯৪৬-এর ৬ নম্বর ধারার আওতায় বাংলা জুড়ে সিবিআই এর ক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এমনকি তা আজ থেকেই কার্যকর হয়েছে। নির্দেশিকা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী বা কেন্দ্রীয় পাবলিক সেক্টর সংস্থার কর্মী বা বেসরকারি কোনও কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠলে সিবিআই অনায়াসে তদন্ত করতে পারবে। আলাদা করে রাজ্য সরকারের কাছে কোনও আবেদন করতে হবে না। কিন্তু রাজ্য সরকারি কর্মীদের বিরুদ্ধে কোনও তদন্ত করতে গেলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিতে হবে।
বলে রাখি, তৎকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে এই প্রথা চালু হয়েছিল। ২০১৮ সালে সরকার সিবিআই-এর জেনারেল কনসেন্ট প্রত্যাহার করেছিল। তখন থেকেই পশ্চিমবঙ্গে কোনও তদন্ত শুরু করতে গেলে অবশ্যই রাজ্য সরকারের অনুমতি দরকার পড়ত। কারণ রাজ্য সরকারের যুক্তি ছিল যে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ক্ষমতার অপব্যবহার করছে। সেই কারণেই এই পদক্ষেপ। এমনকি এ নিয়ে পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মামলা গড়ায়।
আরও পড়ুন: ফের অভিষেকের বাড়িতে সিআইডি, এবার কী দোষ তৃণমূল সাংসদের?
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের পরেও একাধিক বার মামলায় সিবিআই এফআইআর করার বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায়। তখন আদালত জানিয়েছিল, কোনও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই ক্ষমতা ব্যবহার করে তদন্ত আটকে দেওয়া সম্ভব নয়। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি দেশের যে যে রাজ্যে ইন্ডিয়া জোটের সরকার রয়েছে, সেখানেও এই জেনারেল কনসেন্ট প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ ১৫ বছর পর রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল ঘটেছে। আর এবার রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যার কারণে সিবিআই-র আর কোনও বাধা থাকল না।