সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ram Mandir) দানপাত্র ঘিরে ওঠা বিতর্ক নিয়ে আবারও জলঘোলা হচ্ছে। দানবাক্সে আর্থিক অনিয়ম বা কারচুপির অভিযোগ সামনে আসার পর এবার তদন্ত নেমেছে বিশেষ তদন্তকারী দল এসআইটি (SIT)। খুব শীঘ্রই এসআইটির একটি দল অযোধ্যায় (Ayodhya) পৌঁছে তদন্ত শুরু করতে পারে বলে মিলেছে খবর।
রাম মন্দিরে চুরি নিয়ে বড় পদক্ষেপ
আসলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপাউতর শুরু হয়েছে যোগীরাজ্যে। রাম মন্দির ট্রাস্ট, প্রশাসন এবং তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। যদিও শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান নৃপেন্দ্র মিশ্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, তদন্তে কোনও রকম গাফিলতি হবে না। সমস্ত বিষয় নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে। তাঁর কথায়, এসআইটি গঠন নিয়ে যেভাবে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে সেগুলি এড়িয়ে চলা উচিত। ভক্তদের বিশ্বাস রক্ষা এখন সবথেকে বড় দায়িত্ব। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তদন্তকারী দল অযোধ্যায় পৌঁছে কাজ শুরু করবে। আর রাম মন্দির ট্রাস্ট তদন্তে সহযোগিতা করবে বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে শুধুমাত্র অপরাধমূলক তদন্ত নয়, বরং ভবিষ্যতে যাতে এরকম অভিযোগ না ওঠে সেদিকেও নজর দেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে। দানপত্র সংক্রান্ত গোটা ব্যবস্থায় কোথায় ত্রুটি রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হবে। জানিয়ে দিই, এই বিতর্কের সূত্রপাত সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করেই। তারপর থেকেই বিষয়টি রাজনৈতিক রূপ নিতে শুরু করে। বিরোধীরা স্বচ্ছ তদন্তের দাবি তোলে। অন্যদিকে শাসক দল অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলেই দাবি করছে।
এমনকি এ নিয়ে পোস্টার যুদ্ধও শুরু হয়েছে অযোধ্যায়। যুব কংগ্রেস নেতা শরদ শুক্লা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হোর্ডিং লাগিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলছেন। এমনকি পোস্টারে ধর্মগ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হচ্ছে, মন্দিরের দান বা সম্পত্তি আত্মসাৎ করা গুরুতর পাপের শামিল। অভিযোগ যদি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে ট্রাস্ট এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা এফআইআর কেন দায়ের করল না? এদিকে এই বিতর্কের মাঝেই রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে বড় আপডেট দিয়েছেন নৃপেন্দ্র মিশ্র। তাঁর দাবি, মন্দির নির্মাণের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। আগামী জুনের শেষ বা ১৫ জুলাইয়ের মধ্যেই অধিকাংশ নির্মাণকার্য সম্পন্ন হবে। আর ইতিমধ্যেই প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ ট্রাস্টের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ব্যারাকপুরে নতুন তিন বাস রুট, কোথায় কোথায়? বড় আশ্বাস দিলেন পরিবহণ মন্ত্রী
এমনকি শুধু মন্দির নয়, বরং অযোধ্যার আন্তর্জাতিক রামকথা সংগ্রহশালার কাজও দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। আধুনিক ৩ডি গ্যালারি, বিশেষ হনুমান গ্যালারি সহ একাধিক আকর্ষণ নিয়ে এই সংগ্রহশালা তৈরি হচ্ছে। আইআইটি মাদ্রাজ প্রযুক্তিগত প্রস্তুতির বৃহৎ অংশ সম্পন্ন করেছে বলেও খবর। আর সবকিছু যদি ঠিকঠাক থাকে, তাহলে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সংগ্রহশালার কাজ শেষ হতে পারে।